কর ছাড়, ঋণঝুঁকি এড়ানো এবং আইনি সুরক্ষা এই তিন সুবিধাকে সামনে রেখে ইলন মাস্ক তার মহাকাশ প্রতিষ্ঠান SpaceX–এর মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোম্পানি xAI অধিগ্রহণে একটি কৌশলী ‘ত্রিভুজাকার মার্জার’ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
সোমবার ঘোষিত এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ১.২৫ ট্রিলিয়ন ডলারের এক বিশাল কর্পোরেট কাঠামো তৈরি হয়েছে, যা চলতি বছরের মধ্যেই শেয়ারবাজারে (IPO) আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। লক্ষ্য ভবিষ্যতে মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের মতো উচ্চাভিলাষী প্রকল্পে অর্থায়ন।
কী এই ‘ত্রিভুজাকার মার্জার’?
চুক্তি অনুযায়ী, xAI পুরোপুরি SpaceX–এর সঙ্গে একীভূত না হয়ে একটি স্বতন্ত্র সহায়ক প্রতিষ্ঠান (wholly owned subsidiary) হিসেবেই থাকছে। কর্পোরেট অধিগ্রহণে এই পদ্ধতিকে ‘triangular merger’ বলা হয়, যা সাধারণত কর-সাশ্রয়ী এবং আইনি ঝুঁকি কমাতে ব্যবহৃত হয়।
এর ফলে: xAI–এর ঋণ ও আইনি দায় সরাসরি SpaceX–এর ওপর বর্তায়নি, xAI আগের মতোই স্বাধীনভাবে কার্যক্রম চালাতে পারবে, সম্ভাব্য তদন্ত বা মামলা থেকে SpaceX অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবে।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X (আগের টুইটার)–এর মালিকানা বর্তমানে xAI–এর হাতে। ইউরোপে গ্রোক (Grok) চ্যাটবটের মাধ্যমে যৌনকেন্দ্রিক ডিপফেক ছবি ছড়ানোর অভিযোগে X ইতোমধ্যেই তদন্তের মুখে।
ঋণ পরিশোধের চাপ এড়ানো
সূত্র জানায়, এই বহুস্তরীয় চুক্তির ফলে xAI–এর বিপুল ঋণ তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে হয়নি। X অধিগ্রহণের সময় xAI প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেয়, পরে আরও অন্তত ৫ বিলিয়ন ডলার যোগ হয়।
চুক্তির কাঠামো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে এটি ‘change of control’ হিসেবে গণ্য না হয় ফলে উচ্চ সুদের সময়ে ঋণ পুনঃঅর্থায়নের চাপও এড়ানো গেছে।
করমুক্ত সুবিধা বিনিয়োগকারীদের
এই অধিগ্রহণকে tax-free reorganization হিসেবে গঠন করা হয়েছে। ফলে xAI–এর শেয়ারহোল্ডাররা SpaceX–এর শেয়ার পেলেও তা বিক্রি না করা পর্যন্ত কর দিতে হবে না।
চুক্তিতে xAI–এর মূল্যায়ন ধরা হয়েছে ২৫০ বিলিয়ন ডলার। প্রতিটি xAI শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা পাচ্ছেন ০.১৪৩৩টি SpaceX শেয়ার।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় M&A?
LSEG–এর তথ্য অনুযায়ী, সম্পূর্ণ শেয়ারভিত্তিক এই লেনদেনটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মার্জার ও অধিগ্রহণ (M&A) হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে SpaceX–এর মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার।
IPO পরিকল্পনা বহাল
বিশ্লেষকদের মতে, এই অধিগ্রহণ SpaceX–এর বহুল আলোচিত IPO পরিকল্পনায় বড় কোনো বিলম্ব ঘটাবে না। কোম্পানির সাম্প্রতিক আর্থিক তথ্য দেখে কিছু ব্যাংক ধারণা করছে, IPO–র মাধ্যমে SpaceX ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি তহবিল তুলতে পারে, যেখানে মূল্যায়ন ছাড়াতে পারে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার।
তবে কিছু বিনিয়োগকারী মনে করছেন রকেট উৎক্ষেপণ, স্টারলিংক স্যাটেলাইট, প্রতিরক্ষা চুক্তির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যুক্ত হওয়ায় SpaceX এখন একটি জটিল কনগ্লোমারেটে পরিণত হচ্ছে, যার মূল্যায়ন সহজ হবে না। তারপরও ইলন মাস্কের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা অটুট।
সূত্র: রয়টার্স
সাবরিনা রিমি/










