সূর্য থেকে শক্তিশালী সৌর শিখা নির্গমন, যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রভাবের আশঙ্কা

নাসার Solar Dynamics Observatory (SDO) সূর্য থেকে নির্গত একটি শক্তিশালী সৌর শিখার এই ছবি ধারণ করেছে।

সূর্য থেকে একটি শক্তিশালী সৌর শিখা (Solar Flare) নির্গত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ১৩ মিনিটে এই সৌর শিখাটি সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছায়। নাসার Solar Dynamics Observatory (SDO) সূর্যের এই তীব্র কর্মকাণ্ডের দৃশ্য ধারণ করেছে।

নাসার প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, কালো পটভূমির বিপরীতে নীল ও লাল রঙে চিহ্নিত সূর্যের গায়ে উপরের মধ্যভাগে সাদা ও লাল রঙের একটি উজ্জ্বল বিস্ফোরণ যেটিই মূলত সৌর শিখা। ছবিটি সূর্যের অত্যন্ত উত্তপ্ত পদার্থকে তুলে ধরতে এক্সট্রিম আল্ট্রাভায়োলেট আলো ব্যবহার করে ধারণ করা হয়েছে।

নাসা জানিয়েছে, এই সৌর শিখাটি X4.2 শ্রেণির, যা সবচেয়ে শক্তিশালী সৌর শিখাগুলোর মধ্যে পড়ে। সৌর শিখার শ্রেণিবিন্যাসে X-ক্লাস সর্বোচ্চ শক্তির নির্দেশক এবং সংখ্যাটি শিখার তীব্রতা বোঝায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের শক্তিশালী সৌর শিখা ও সৌর বিস্ফোরণের প্রভাব পড়তে পারে রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থায়, বিদ্যুৎ গ্রিডে, জিপিএস ও নেভিগেশন সিগনালে, মহাকাশযান ও নভোচারীদের নিরাপত্তায়।

পৃথিবীর ওপর এই সৌর ঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাব জানতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অফিসিয়াল সংস্থা NOAA-এর Space Weather Prediction Center-এর পূর্বাভাস পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নাসা জানিয়েছে, দেশটির স্পেস ওয়েদার কার্যক্রমে গবেষণা অংশীদার হিসেবে তারা সূর্য ও পৃথিবীর আশপাশের মহাকাশ পরিবেশ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। নাসার একাধিক মহাকাশযান সূর্যের কার্যকলাপ, সৌর বায়ুমণ্ডল, কণা ও চৌম্বক ক্ষেত্র নিয়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে আরও সৌর শিখা ও সৌর ঝড়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, ফলে বৈশ্বিক যোগাযোগ ও প্রযুক্তি অবকাঠামোকে সুরক্ষিত রাখতে সতর্ক নজরদারি জরুরি।

সূত্র: নাসা

সাবরিনা রিমি/