অবৈধ ভারতীয় ফোনে চাপের মুখে দেশীয় মোবাইল শিল্প

ছবি: সংগৃহীত

ভারত থেকে আসা অবৈধ মোবাইল ফোনের কারণে বাংলাদেশের স্থানীয় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কারখানাগুলো গুরুতর ঝুঁকিতে পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ চোরাচালানি ফোন দেশে ঢুকছে, যা দেশের বাজারে তৈরি মোবাইল শিল্পের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে।

এ পরিস্থিতি এমন সময় তৈরি হলো, যখন ভারত বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে। দেশটির তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক অধিবেশনে জানান, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে ভারত আন্তর্জাতিক মানের নিজস্ব স্মার্টফোন ব্র্যান্ড বাজারে আনতে যাচ্ছে। এই ব্র্যান্ড শুধু অভ্যন্তরীণ বাজার নয়, বরং বিশ্ববাজার লক্ষ্য করেই তৈরি হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের উৎপাদন সক্ষমতা ও সহায়ক নীতির সুযোগ নিয়ে একটি চোরাচালানি চক্র বাংলাদেশে অবৈধ মোবাইল সরবরাহ বাড়িয়ে দিয়েছে। কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও সিলেট সীমান্ত হয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ফোন দেশে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই অবৈধ প্রবাহের ফলে বাংলাদেশে গড়ে ওঠা দেশীয় মোবাইল কারখানাগুলো মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে। বাজারে কম দামে অবৈধ ফোন সহজলভ্য হওয়ায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মোবাইল প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। ফলে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ মোবাইল শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

কোভিড-পরবর্তী সময়ে চীন থেকে উৎপাদন কারখানা সরানোর সুযোগে বাংলাদেশে ২০টির বেশি মোবাইল ফোন কারখানা গড়ে ওঠে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রপ্তানির লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছিল। তবে অবৈধ ফোনের লাগামহীন প্রবেশে এসব কারখানা এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে নেমেছে।

এই সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর (NEIR) ব্যবস্থা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবৈধ ফোন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে দেশীয় শিল্প ও বিনিয়োগ সুরক্ষা কঠিন হয়ে পড়বে।

ভারতের আগ্রাসী বাজার নীতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের আরও সতর্ক ও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: টেকজুম

সাবরিনা রিমি/