বিটরুটের হালুয়া: পুষ্টিগুণে ভরপুর

বিটরুট পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি সবজি, যা রক্তস্বল্পতা দূর করতে সহায়ক এবং শরীরে শক্তি জোগায়।এর প্রাকৃতিক লাল রঙ ও মিষ্টি স্বাদ খাবারকে যেমন আকর্ষণীয় করে, তেমনি স্বাস্থ্যের জন্যও ভীষণ উপকারী।

উপকরণ
মাঝারি আকারের কয়েকটি টাটকা বিটরুট, পরিমাণমতো ফুল ফ্যাট দুধ, স্বাদ অনুযায়ী চিনি, ভালো মানের ঘি, এলাচ গুঁড়া, কাজু বাদাম, কিশমিশ এবং চাইলে সামান্য গোলাপ জল বা কেওড়া জল। বিটরুট অবশ্যই টাটকা ও শক্ত হতে হবে, তাহলে রঙ ও স্বাদ দুটোই ভালো আসবে।

প্রণালি
প্রথমে বিটরুট ভালোভাবে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে। এরপর একটি গ্রেটারের সাহায্যে বিটরুট ঝিরঝিরে করে কুরিয়ে নিতে হবে। গ্রেট করা বিটরুট আলাদা করে রেখে দিতে হবে। এবার একটি ভারী তলার কড়াই চুলায় বসিয়ে মাঝারি আঁচে ঘি গরম করতে হবে। ঘি গরম হলে তাতে গ্রেট করা বিটরুট দিয়ে দিতে হবে এবং লাগাতার নেড়ে ভাজতে হবে। প্রায় ৮ থেকে ১০ মিনিট ভাজার পর বিটরুটের কাঁচা গন্ধ চলে যাবে এবং রঙ আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

এরপর ধীরে ধীরে দুধ যোগ করতে হবে। দুধ দেওয়ার পর আঁচ কমিয়ে নিয়মিত নেড়ে রান্না করতে হবে, যাতে নিচে লেগে না যায়। এই সময় বিটরুট দুধ শুষে নিয়ে নরম হতে থাকবে। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট রান্না করলে দুধ ঘন হয়ে আসবে এবং মিশ্রণটি হালুয়ার মতো হতে শুরু করবে।

এখন চিনি যোগ করতে হবে। চিনি দেওয়ার পর হালুয়া কিছুটা পাতলা হয়ে যাবে, এতে চিন্তার কিছু নেই। আবার নেড়ে নেড়ে রান্না চালিয়ে যেতে হবে। চিনি ভালোভাবে মিশে গেলে এলাচ গুঁড়া এবং চাইলে অল্প গোলাপ জল বা কেওড়া জল যোগ করা যেতে পারে। এতে হালুয়ার ঘ্রাণ অনেক সুন্দর হবে।

রান্নার শেষ দিকে হালুয়া যখন কড়াই থেকে আলাদা হয়ে আসবে এবং চারপাশে ঘি ছেড়ে দেবে, তখন বুঝতে হবে এটি প্রস্তুত। এবার কাজু বাদাম ও কিশমিশ দিয়ে আরও কয়েক মিনিট নেড়ে চুলা বন্ধ করতে হবে।

পরিবেশন
গরম গরম বিটরুটের হালুয়া পরিবেশন করলে স্বাদ সবচেয়ে ভালো লাগে। চাইলে উপর থেকে সামান্য ঘি বা বাদাম ছড়িয়ে দেওয়া যায়। শীতের দিনে, ইফতার বা দাওয়াতের মিষ্টি হিসেবে এই হালুয়া খুবই জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর।

-বিথী রানী মণ্ডল