ফুল কিংবা পাতা, কিছুই যাবে না ফেলা

পালং, পুই, লাই পাতা, কুমড়ো ফুল দিয়ে মজাদার বড়া তৈরি করে প্রতি বেলার খাবারের সঙ্গে রাখলে দেখবেন খাবারের স্বাদ বেড়ে যাবে।

কুমড়ো ফুলের বড়া খুবই জনপ্রিয়, হালকা ও খাস্তা একধরনের ভাজা। কীভাবে বানাবেন? খুব সহজ-

উপকরণ

কুমড়ো ফুল
বেসন (ছোলার ডাল গুঁড়ো)
চালের গুঁড়ো (খাস্তা করার জন্য)
লবণ স্বাদমতো
হলুদ গুঁড়ো সামান্য
মরিচ গুঁড়ো বা কাঁচামরিচ কুচি স্বাদমতো
একটু ঝাল–আদা বাটা (ঐচ্ছিক)
তেল ভাজার জন্য

প্রণালি

কুমড়ো ফুলগুলো খুব সাবধানে ধুয়ে নিন। ভেতরের শক্ত অংশ ও পুংকেশর আলতো করে ফেলে দিন। একটি বাটিতে বেসন, চালের গুঁড়ো, লবণ, হলুদ, মরিচ গুঁড়ো/কাঁচামরিচ সব মিশিয়ে নিন। অল্প অল্প পানি দিয়ে ঘন ব্যাটার বানান (বড়া ডুবিয়ে ভাজার মতো)। কড়াইয়ে তেল গরম করুন। প্রতিটি ফুল ব্যাটারে ডুবিয়ে গরম তেলে ছেড়ে দিন। মাঝারি আঁচে দু’পাশ সোনালি ও খাস্তা হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। টিস্যু পেপারে তুলে তেল ঝরিয়ে নিন।

পুইশাকের বড়া খুবই সহজ, মুচমুচে আর ভাতের সঙ্গে চমৎকার লাগে-

উপকরণ

পুইশাক (পাতা ও নরম ডাঁটা)
পেঁয়াজ কুচি
কাঁচা মরিচ কুচি
রসুন বাটা (ঐচ্ছিক)
বেসন
চালের গুঁড়ো (বড়া খাস্তা করবে)
লবণ স্বাদমতো
হলুদ গুঁড়ো সামান্য
তেল ভাজার জন্য

পুইশাক ভালোভাবে ধুয়ে কুচি করে নিন। পানি যেন না থাকে। একটি বড় বাটিতে শাক, পেঁয়াজ, মরিচ, রসুন, লবণ, হলুদ সব মিশিয়ে নিন। এরপর বেসন ও চালের গুঁড়ো দিন। হাত দিয়ে মিশিয়ে দেখুন। কড়াইয়ে তেল গরম করুন। হাত বা চামচ দিয়ে ছোট ছোট বড়া আকারে তেলে ছেড়ে দিন। মাঝারি আঁচে দু’পাশ সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। টিস্যুতে তুলে তেল ঝরিয়ে নিন।

লাউপাতার বড়া খুবই মজাদার ও গ্রামীণ স্বাদের একটি পদ। এটা বেসন দিয়ে না করে ডালটা বেটে নিয়ে করতে হবে-

উপকরণ

লাউপাতা (নরম ও টাটকা)
চালের গুঁড়ো
ডাল বাটা (মসুর/মুগ)
শুকনো মরিচ গুড়ো
হলুদ গুঁড়ো সামান্য
লবণ পরিমাণমতো
তেল ভাজার জন্য

লাউপাতাগুলো ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। একটি বাটিতে চালের গুঁড়ো, ডাল বাটা, মরিচ গুড়ো, হলুদ ও লবণ মেশান। অল্প পানি দিয়ে ঘন একটি পেস্ট তৈরি করুন। প্রতিটি লাউ পাতায় মিশ্রণটি লাগিয়ে পাতাগুলো ভাঁজ করে নিন। কড়াইয়ে তেল গরম করে মধ্যম আঁচে একে একে বড়াগুলো ভাজুন। দু’পাশ সোনালি হয়ে এলে নামিয়ে টিস্যুতে তুলে নিন।

পরিবেশন

তিন রকমের বড়া গরম গরম ভাত, ভর্তা বা চাটনির সঙ্গে দারুণ লাগে। গরম গরম কুমড়ো ফুলের বড়া ভাতের সঙ্গে বা শুধু নাস্তা হিসেবেও দারুণ লাগে। চাইলে হালকা চাটনি বা কাঁচা মরিচ ভর্তার সঙ্গে পরিবেশন করতে পারেন।