ঢাকা ৮ আসনে বিএনপি প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘আপনারা জানেন, আমার অবস্থান বরাবরই চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে। এটা নতুন কোনো বিষয় নয়। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে যেসব কুৎসা রটানো হচ্ছে, সেগুলো এদেশের মানুষ বিশ্বাস করবে না।’
gnewsদৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলিস্তানের হল মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের একজন ব্যবসায়ী বলেছেন ৫ই আগস্টের পরে শান্তিতে আছেন। আপনারা শান্তিতে থাকেন এটাই চাই।’
ঢাকা ৮ আসনে বিএনপি প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, অল্প পানির মাছ বেশি পানিতে গেলে যেমন করে, তাদের অবস্থা এখন এমন হয়ে গেছে। তারা আমার বিরুদ্ধে কথা বলছেন যেটি তাদের মুখে মানায় না। আপনারা যদি ভাবেন, মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে একটু কথা বললেই প্রচারণায় থাকা যায়। এর জন্য বহু রাস্তা আছে। এরজন্য আপনারা দান-খয়রাত করেন এবং ভালোভাবে কথা বলেন। কিন্তু, এভাবে গালিগালাজ করে, অসভ্য ভাষায় কথা বলে নিজেকে জাহির করবেন না।
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘জনগণ জানে চুলার মুখ দিয়ে কখনো স্বর্ণ বের হয় না। চুলার মুখ দিয়ে ছাই বের হয়। আর স্বর্ণের খনি থেকে কখনো ছাই বের হয় না।’
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আমার সম্পর্কে যে ভাষায় কথা বলা হচ্ছে তা দেখে আমি আশ্চর্য হই। যারা এসব কথা বলছেন তারা বয়সে পরিণত, অনেকেই বিবাহিত, সন্তানের বাবা হবেন। আপনাদের বলা সব কথার রেকর্ড থাকবে এবং ভবিষ্যতে সেই রেকর্ড শুনে নিজের অবস্থান নিয়ে ভাবতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে, নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার বিষয়টি মাথায় রেখে কথা বলার অনুরোধ করছি। দয়া করে একজন মানুষের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করবেন না। বরং নিজে কি করবেন, কি করেছেন, সেটা বলেন।
তিনি বলেন, সকাল-সন্ধ্যা জামায়াতে ইসলামের একটা জুনিয়র গ্রুপ বিএনপি সম্পর্কে অসংখ্য নোংরা কথাবার্তা বলছে। জামায়াতের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃবর্গ আমাদের দেশের চাকরিজীবী মেয়েদের সম্পর্কে খারাপ কথা বলেছে। তাদের মুখের কথাবার্তা লাগামহীন হয়ে গেছে।
কখনো কোনো অনৈতিক সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেননি উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যারা কথা বলছেন, আমি একটু স্পষ্ট করতে চাই—যদি আপনাদের বুকের পাটা থেকে থাকে, তাহলে আসেন বায়তুল মোকাররমের সামনে আমার নামে শালিস বসান। কোনো অসুবিধা নেই, আমার বুকে সাহস আছে। আমি চুরিচামারি করে বড় হইনি। গায়ে খেটে বড় হয়েছি এবং নিজ হাতে কাজ করেছি।
মতবিনিময় সভায় ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন কেন্দ্র পাহারা দিবেন। যারা পোলিং এজেন্ট হবেন, তারা রেজাল্ট শিট দিয়ে রুম থেকে বের হবেন। প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষরিত রেজাল্ট শিট ছাড়া, ঐ এলাকা থেকে কোনো রিগার্ডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্ট যাতে বের হতে না পারে। যদি বলা হয় ভোট অফিসে গিয়ে গননা করা হবে, এটা কোনোভাবেই এলাও করবেন না। ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে, জনগণ ভোটের অধিকার রক্ষায় সংগ্রাম করতে রাজি আছে। আবার শুনছি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হবে। নব্য প্রার্থীদের কথাবার্তায় বুঝতে পারছি, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হওয়ার চান্স রয়েছে।
হল মার্কেটে বক্তব্য দেওয়ার পর তিনি গুলিস্তানের পাতাল মার্কেট, স্টেডিয়াম মার্কেটে নির্বাচনী প্রচারণা করেন। বায়তুল মোকাররমে জোহরের নামাজের পর তিনি সেখানকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন।
-মামুন









