দুর্নীতির পাহাড়: মতিউরের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিল দুদক

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এই অনুমোদন দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মতিউর রহমান তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া সরকারি পদের অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। তাঁর বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মতিউর ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছিল দুদক। এই মামলায় মতিউরের একক দুর্নীতির তদন্ত শেষ করে আজ চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হলো।

এতে মতিউরের সাথে তার দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আখতার শিবলীকেও আসামি করা হয়েছে। শিবলীর বিরুদ্ধে প্রায় ৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে, যার তদন্ত এখনো চলমান।

মতিউর রহমানের এই বিপুল বিত্তবৈভবের কাহিনী প্রকাশ্যে আসে ২০২৪ সালের কোরবানির ঈদে একটি ‘ছাগল কেনা’কে কেন্দ্র করে। তার ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাত ১৫ লাখ টাকা দিয়ে একটি ছাগল কিনতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন। এরপরই বেরিয়ে আসতে থাকে এই পরিবারের নামে থাকা বিপুল ভূ-সম্পত্তি, ফ্ল্যাট ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাহাড়। দুদকের অনুসন্ধানে মতিউর ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ৬৫ বিঘা জমি, ৮টি ফ্ল্যাট, দুটি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট এবং ৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি শেয়ারবাজার ও ব্যাংক হিসাবেও তাদের বিপুল অর্থের সন্ধান মেলে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই চার্জশিট অনুমোদনের মাধ্যমে আলোচিত এই কর্মকর্তার দুর্নীতির বিচারিক প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাল।