বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের যুবসমাজ কোনো করুণা বা অনুদান চায় না, তারা চায় কাজ করার সুযোগ।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর সার্কিট হাউস ময়দানে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির নাম উল্লেখ না করে তাদের প্রস্তাবিত ‘বেকার ভাতা’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির কড়া সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের আন্দোলনে যুবকরা কি বেকার ভাতার জন্য জীবন দিয়েছিল? তারা দেশ গড়তে চেয়েছিল। আমরা যুবকদের হাতে অপমানজনক ‘বেকার ভাতা’ তুলে দেব না; বরং প্রতিটি হাতকে কর্মক্ষম করে গড়ে তুলব।” তিনি আরও বলেন, যারা আজ ‘ফার্মার্স কার্ডের’ কথা বলে কৃষকদের ধোঁকা দিচ্ছেন, তাদের শাসনামলেই সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের গুলি করে মারা হয়েছিল।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চোরেরা দেশের ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ইনশাআল্লাহ, ক্ষমতায় গেলে পাচারকারী ‘মামু-খালু’ কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং এই বিশাল অংকের টাকা উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
প্রশাসনিক সংস্কারের বিষয়ে তিনি পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির বেতন কাঠামো পুনর্মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, “২৪ ঘণ্টা ডিউটি করা পুলিশ আর ৮ ঘণ্টা কাজ করা সাধারণ কর্মচারীর বেতন সমান হতে পারে না। আমরা মেধা ও পরিশ্রম অনুযায়ী সবার ন্যায্য অধিকার বুঝিয়ে দেব।”
ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গবেষণাগারে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, কৃষিকে স্রেফ চাষাবাদ নয়, একটি সমৃদ্ধ শিল্পে পরিণত করা হবে। এছাড়া সকল ধর্মের নারীর সমান মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি নারীকে আমরা মায়ের নজরে দেখি।
বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান ময়মনসিংহ বিভাগের ১১টি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের মঞ্চে ডেকে ভোটারদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এবারের নির্বাচন ভাগ্য বদলের নির্বাচন। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, আর ‘না’ মানে গোলামী।”
দুপুর ১টা ২০ মিনিটে জনসভাটি শেষ হয়। একই দিন সকালে কিশোরগঞ্জের জনসভা শেষ করে তিনি হেলিকপ্টার যোগে ময়মনসিংহে পৌঁছান। পুরো শহর ও সার্কিট হাউস এলাকায় মোতায়েন ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
–লামিয়া আক্তার










