জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনকে ঘিরে পার্শ্ববর্তী দেশ নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। প্রকাশ্যে ১১ দলীয় জোটের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার মাধ্যমে তারা একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষ অবলম্বন করছে। গত ১৬ বছর তারা ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। এমন আচরণ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থি।
বাংলাদেশে কে সরকার গঠন করবে, কারা ক্ষমতায় আসবে তা নির্ধারণ করবে একমাত্র জনগণ। আধিপত্যবাদ যদি এ নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে তাদেরকে প্রতিহত করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে এদশের জনগণ দাঁড়াবে। আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনী জনসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করতে পারলে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জুলাই গণহত্যা ও শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চৌদ্দগ্রাম পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এই নির্বাচন কোনো বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক ঘটনা নয়; এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিক ফল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কারণেই দেশ আজ একটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে পেরেছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল ইনসাফভিত্তিক একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা, যেখানে জনগণের অধিকার নিশ্চিত হবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন নিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশের ভূমিকার সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রকাশ্যে ১১ দলীয় জোটের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার মাধ্যমে তারা একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে অবস্থান করছে। এ ধরনের আচরণ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থি। কেউ যদি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে, তাহলে জনগণই তার উপযুক্ত জবাব দেবে।
তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করতে পারলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে। সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার থাকবে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের বিচার নিশ্চিত করা এবং ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা।
জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। সমাবেশে বক্তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
-মামুন










