ইথিওপীয়দের বহিষ্কার সুরক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দিলেন মার্কিন বিচারক

ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত হাজারো ইথিওপীয় নাগরিকের বহিষ্কার সুরক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তে সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছেন এক ফেডারেল বিচারক। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে নতুন আইনি বাধা সৃষ্টি হলো।

বস্টনের ফেডারেল বিচারক ব্রায়ান মারফি শুক্রবার এক আদেশে ইথিওপীয়দের জন্য নির্ধারিত ১৩ ফেব্রুয়ারির সময়সীমা স্থগিত করেন। ওই সময়ের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ইথিওপীয় নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বলা হয়েছিল, অন্যথায় গ্রেপ্তারের ঝুঁকি ছিল।

ভার্চুয়াল শুনানিতে বিচারক মারফি বলেন, এই স্থগিতাদেশের মাধ্যমে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে (ডিএইচএস) তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সংক্রান্ত নথি আদালতে উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমি এই মামলাটি চালু রাখার জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করতে চাই।”

২০২২ সালে ইথিওপীয়দের জন্য দেওয়া ‘টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস’ (টিপিএস) গত ডিসেম্বর বাতিলের ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এর বিরুদ্ধে তিনজন ইথিওপীয় নাগরিক এবং অধিকারকর্মী সংগঠন ‘আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার’ মামলা দায়ের করে।

মামলায় বলা হয়, ইথিওপিয়ায় চলমান সশস্ত্র সংঘাত ও অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও মাত্র ৬০ দিনের নোটিশে টিপিএস বাতিল করা হয়েছে, যা আইনবিরোধী। পাশাপাশি অভিযোগ করা হয়, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম অশ্বেতাঙ্গ অভিবাসীদের প্রতি ‘অসাংবিধানিক পক্ষপাত’ থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এখনও ইথিওপিয়ায় ভ্রমণে সতর্কতা জারি রেখেছে। দেশটিতে সহিংসতা, গৃহস্থালি অস্থিরতা, অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ ও অপহরণের ঝুঁকি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

তবে ডিএইচএসের দাবি, টিপিএস কখনোই স্থায়ী নাগরিকত্বের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের জন্য নয়। সংস্থার মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন বলেন, “আগের প্রশাসনগুলো দীর্ঘদিন ধরে টিপিএসকে কার্যত সাধারণ ক্ষমার মতো ব্যবহার করেছে।”

এই রায়ের একদিন আগেই আরেকটি ফেডারেল আপিল আদালত ৬ লাখ ভেনেজুয়েলানের বহিষ্কার সুরক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তকে বেআইনি ঘোষণা করে। ওই আদালত রায়ে জানায়, প্রশাসনের পদক্ষেপে ‘বর্ণবাদী ধ্যানধারণার’ প্রতিফলন ঘটেছে এবং মানুষকে স্থায়ী আতঙ্কে রাখা হয়েছে।

বর্তমানে এক ডজনের বেশি দেশের নাগরিকদের টিপিএস বাতিলের মুখে পড়তে হচ্ছে। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি ৩ লাখ ৫০ হাজার হাইতিয়ান এবং ১৭ মার্চ সোমালিয়ার নাগরিকদের সুরক্ষা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে—যদিও উভয় দেশেই ভ্রমণে মার্কিন সতর্কতা বহাল আছে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বহিষ্কার অভিযানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। চলতি মাসে মিনেসোটায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর এই আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সূত্রঃ আল জাজিরা
বেলাল হোসেন/