বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রশ্নপত্রে ১৭৭ বানান ভুল, পিএসসির বিস্ময়

শুক্রবার দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অন্তত ১৭৭টি বানান ভুল থাকায় পরীক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিসিএসের মতো দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে এমন নজিরবিহীন ভুলের ঘটনায় খোদ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) প্রশ্নের মুখে পড়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রশ্নকর্তারা প্রায় সব ক্ষেত্রেই নত্ববিধান লঙ্ঘন করেছেন। ‘আচরণ’, ‘গবেষণা’, ‘কারণ’ বা ‘মন্ত্রণালয়’-এর মতো অতি সাধারণ শব্দগুলোতে মূর্ধন্য-ণ এর পরিবর্তে দন্তন্য-ন ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, কেবল ‘ণ’ এর ভুলই নয়, ই-কার ও ঈ-কারের যথেচ্ছ ব্যবহার এবং অশুদ্ধ বানানের ছড়াছড়ি ছিল পুরো প্রশ্নে। ‘জ্বালানি’কে ‘জালানী’, ‘বাঙালি’কে ‘বাংগালি’ এবং ‘শূন্য’কে ‘শূণ্য’ লেখা হয়েছে। এমনকি সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক নামের ক্ষেত্রেও চরম গাফিলতি দেখা গেছে; চর্যাপদের কবি ‘ভুসুকুপা’-কে লেখা হয়েছে ‘ভুসুরুপা’। প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসরণ করে যেখানে পরীক্ষার্থীদের মেধা যাচাই করার কথা, সেখানে প্রশ্নপত্রের এমন বেহাল দশা শিক্ষার্থীদের বিস্মিত করেছে।

পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের শুদ্ধ বানান শিখতে বাধ্য করা হয়, অথচ প্রশ্নকর্তারা নিজেরাই নূ্যনতম নিয়ম মানেননি। এটি সত্যিই লজ্জাজনক।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম জানান, তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো অভিযোগ পাননি। তবে ণত্ববিধান ভুলের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এসব বানানে অবশ্যই মূর্ধন্য-ণ হওয়া উচিত। প্রশ্ন প্রণয়নে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন ছিল।’

-মালিহা