বন্দর বিদেশিদের লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ঢাবিতে বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ‘স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি’ নামের একটি সংগঠন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির রাজুতে বিক্ষোভটি অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার রোববার (পহেলা ফেব্রুয়ারি) নিউমুরিং টার্মিনাল আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে কনসেশন চুক্তিতে হস্তান্তর করছে। ‘স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি’ সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং দেশবিরোধী এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কেবল ‘টার্মিনাল অপারেটর’ হিসেবে নয়। বরং আফ্রিকান মডেল অনুসরণ করে ‘কনসেশনিয়ার’ হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে। যা জাতীয় নিরাপত্তা, দেশীয় নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

তাদের অভিযোগ, উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া ও দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে বিডের সুযোগ না দিয়ে আওয়ামী রেজিমের অনুসৃত পথে অনৈতিকভাবে চুক্তি সম্পাদন করা হচ্ছে। দেশীয় ব্যবস্থাপনায় নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালে যেখানে প্রতি কন্টেইনারে গড়ে প্রায় ১৬১ মার্কিন ডলার রেভিনিউ পাওয়া যায়, সেখানে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে কনসেশনে দিলে আনুমানিক ২২-২৫ মার্কিন ডলার পাওয়া যাবে। যেটা বছরে শুধু কনটেইনার হ্যান্ডিলিংয়েই কয়েকশো মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হবে দেশের।

শিক্ষার্থীরা বলছে, দীর্ঘমেয়াদে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর বিদেশি কনসেশনিয়ারের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তাদের মতে, মাল্টিলেটেরাল চুক্তির থাকায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে চট্টগ্রাম বন্দর চলে গেলে মাল্টিলেটেরাল পার্টনার হিসেবে আরব আমিরাতের ঘণিষ্ঠ মিত্র ভারত, আমেরিকা ও ইসরাইলের পরোক্ষ উপস্থিতি, প্রভাব ও তাদের বার্গেইনিং পাওয়ার আমাদের চট্টগ্রাম বন্দরে নিশ্চিত হবে। যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে যে কোনো মুহূর্তে ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশকে কি আফ্রিকা বানাতে চায়, এমন প্রশ্ন রেখে শিক্ষার্থীরা বলেন, সরকারের কাছে আমাদের দাবি—নিউমুরিং টার্মিনালকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে লিজ প্রক্রিয়া অনতিবিলম্বে বাতিল করতে হবে। নইলে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির আহবায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক, যুগ্ম আহবায়ক মুহিউদ্দিন রাহাত, দপ্তর সদস্য সাইফুল ইসলাম, জুবায়েদুল ইসলাম শিহাব, জাবির বিন মাহবুব, আল আমিনসহ প্রায় শ’খানেক শিক্ষার্থী।

-সাইমুন