রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির চার শিক্ষার্থীকে অস্ত্র ঠেকিয়ে মারধর ও ৩০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রদল নেতার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রমনা গেট সংলগ্ন এলাকায় স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের চার শিক্ষার্থী ছিনতাই ও নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন। গত রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে ঘটা এই ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রদল নেতার সংশ্লিষ্টতা মিলেছে। অভিযুক্ত ওই নেতা ইতিমধ্যে টাকা গ্রহণের কথা স্বীকার করেছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, তারা উদ্যান দিয়ে হাঁটার সময় একদল যুবক তাদের পথরোধ করে পরিচয় জানতে চায়। একপর্যায়ে তাদের ‘প্রলয় গ্যাং’ ও মাদকাসক্ত অপবাদ দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করা হয়। প্রতিবাদ জানালে মিফতাহুল শাহরিয়ার মিয়াজ নামের এক শিক্ষার্থীকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়। অন্য তিনজনকে গাছের ডাল দিয়ে পেটানো হয়। ছিনতাইকারীরা নগদ ১৫ হাজার টাকা এবং মোবাইল অ্যাকাউন্ট থেকে আরও ১৫ হাজারসহ মোট ৩০ হাজার টাকা লুটে নেয়।
ছিনতাইকৃত টাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্য সেন হলের একটি দোকানের এজেন্ট নম্বর থেকে ক্যাশ আউট করা হয়। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাবি ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ও রংপুর-৩ আসনের নির্বাচন সমন্বয়ক আরিফ ফয়সাল ওই টাকা সংগ্রহ করছেন। ফুটেজে রাত ৮টা ৬ মিনিটে তাকে দোকানে এসে টাকা তুলে দ্রুত প্রস্থান করতে দেখা যায়।
প্রাথমিকভাবে অস্বীকার করলেও পরে আরিফ ফয়সাল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বন্ধুর অনুরোধে তিনি টাকা তুলেছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, ভুক্তভোগীরাও সেখানে ‘অবৈধ’ কাজ করছিল। তবে জড়িত বন্ধুদের নাম প্রকাশ না করে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ জানান, এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা প্রক্টর অফিসে কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মালিহা










