বিএনপির গুলশাল কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আজকের সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে মাহাদী আমিন ফেনী, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলে্ নারায়ণগঞ্জের সর্ব স্তরের মানুষকে আন্তরিক ও গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।তিনি বলেন,বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের এই দ্বিতীয় নির্বাচনী সফর গণমানুষের মনে এক অভূতপূর্ব সাড়া যুগিয়েছে এবং তা ধানের শীষের প্রতি ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ।
তিনি বলেন,”আপনারা নিশ্চয়ই ই লক্ষ্য করেছেন যে বিপুল জনসমাগমের কারণে জনাব তারেক রহমানের অনেকগুলো কর্মসূচি বিলম্বিত হয়েছিল।তবুও সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ও সরব এবং উৎসবমুখর উপস্থিতির মাধ্যমে জনগণের যে অগাধ আস্থা ভালবাসা সেটির ই প্রতিফলন আমরা দেখতে পেয়েছি।প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা আপনারা অবগত রয়েছেন যে,ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা ২৯২ টি আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আসন্ন নির্বাচনে ৮৫ জন প্রার্থী পূর্বের সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং জনগণের জন্য কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।তারা জনগণের সেবা করেছেন,জনগণের পাশে থেকেছেন।এছাড়াও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে ১৯ জন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় অতীব গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।প্রার্থীদের রাষ্ট্র পরিচালনার এই অতীত অভিজ্ঞতা এবং জনসম্পৃক্ততা গণমানুষের কাছে বিএনপিকে একটি ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে।শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক দিয়েও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন এবং ২৩৭ জন প্রার্থী স্নাতক সম্পূর্ণ করেছেন।বিএনপি আসন্ন নির্বাচনে দশ জন সর্বোচ্চ সংখ্যক নারীপ্রার্থী দিয়েছে যা নারীর ক্ষমতায়নে আমাদের দলীয় প্রতিশ্রুতির বহিঃপ্রকাশ।ইনশাল্লাহ এ সংখ্যা আমরা আগামী দিনে আরো বাড়ানোর জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবো”।
তিনি বলেন,”আপনারা অবগত আছেন যে,দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হওয়া সত্ত্বেও একজন নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি এমন রাজনৈতিক দলও রয়েছে যা হতাশাজনক ও দু:খজনক।বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের সবচেয়ে বেশি গুম, খুন,নির্যাতন-নিপিড়ন,হামলা,
মামলার স্বীকার হয়েছে যে দলটি সেটি বিএনপি।স্বাভাবিকভাবেই বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যেও ফ্যাসিস্ট দ্বারা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এমন প্রার্থীদের আধিক্য রয়েছে।
বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে গুম হওয়ারের মধ্যে রয়েছেন তিনজন প্রার্থী তথা জনাব সালাউদ্দিন আহমেদ,জনাব আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন ও জনাব হুম্মাম কাদের চৌধুরী।এছাড়া গুমের শিকার হওয়া পরিবারের মধ্য থেকে দুইজনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তারা হলেন জনাব ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা এবং সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি।উল্লেখ্য যে, বিএনপি’র প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় সকলের নামেই বহু মামলা রয়েছে এবং অনেকের বিরুদ্ধেই তা সংখ্যায় শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে”।
প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,”আমরা লক্ষ্য করছি যে,একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা এবং তাদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এরকম বেশ কিছু পোস্ট ও ভিডিও আমাদের সবার নজরে এসেছে।তারা বলছেন,তাদের প্রতীককে জয়লাভ করানো মানে নিজের ঈমানকে জয়লাভ করানো।জান ও মাল দিয়ে সেই প্রতীককে নির্বাচনে জয়লাভ করানো তাদের ঈমানী দায়িত্ব তাহলে কবরে গিয়ে বলা যাবে দ্বীন কায়েমের জন্য একটা নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেয়া হয়েছে। তাদের এমন বক্তব্য এবং ধর্মের ব্যাখ্যা দিয়ে নির্বাচনের প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। এ ধরনের প্রচার সুস্পষ্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন।ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে ভোট চাওয়ার এই অপপ্রয়াস অনাকাঙ্ক্ষিত।এটি দৃশ্যমান যে,ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগকে ব্যবহার করে দেশের ভোটারদের প্রভাবিত করার যে চেষ্টা,নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন করছে।
আপনারা জানেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড গণ প্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ৭৭/১(ঘ) অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আইন অনুযায়ী অসৎ প্রভাব বিস্তার হিসাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে পরীগণিত হয় তাই আমরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
আপনারা জানেন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলটির,কর্মী সমর্থকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলা ভোটারদের এনআইডি কার্ডের কপি,মোবাইল নাম্বার ও বিকাশ নাম্বার সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।এই বিষয়ে আমরা নির্বাচন কমিশন কে অবহিত করেছিলাম এবং বিষয়টি আমলে নেয়ায় আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
তিনি এসময় আরো বলেন,”তবে একই সঙ্গে আমরা আশঙ্কা করছি যে,ইতোমধ্যে সংগৃহীত এসব ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া বা জাল ভোট প্রদান অথবা প্রতারণামূলক ভোট,মৃত ব্যক্তিদের নামে ভোট প্রদান এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ভোটারদের আর্থিক প্রলোভোন দেখিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হতে পারে।
আপনারা জানেন,এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভোটার তালিকা আইনের ২০০৯ এর ধারা ১৪ দন্ডবিধি ও ১৮৬০ এর ধারা ৪১৭ ও ৪২০ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ধারা ২ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
তাই আমরা নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানাই,দ্রুতই যেন এসব বেআইনি কর্মকান্ড বন্ধ করা হয় এবং এনআইডি তথ্যের অপব্যবহার রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হয়।আমরা জানতে পেরেছি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভলান্টিয়ার ক্যাটাগরির ১৩ থেকে ১৫ জন আনসার ভিডিপি সদস্য নিয়োগ দেয়া হবে যাদের একটি বড় অংশ স্থানীয় বাসিন্দা।স্থানীয়ভাবে বসবাসকারী অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তাদেরকে নির্বাচনী দায়িত্ব দেয়া নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলে মনে করি।তাই আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করার জন্য তাদেরকে নিজ থানার বাইরে ভিন্ন জায়গায় নির্বাচনী দায়িত্ব প্রদানের দাবি জানাচ্ছি”।
এসময় তিনি সাংবাদিকদের আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার জন্য জন্য তাদেরকে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
-মেহেরীন হাসান খান //










