নিয়মিত ভাতের মার ত্বকে লাগালে ত্বকে নানা ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। ভাতের মার বা চাল ধোয়া পানি বহু বছর ধরে এশীয় দেশগুলোতে প্রাকৃতিক স্কিন কেয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে থাকা ভিটামিন বি, মিনারেল, অ্যামিনো অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের জন্য খুবই উপকারী।
ভাতের মার ত্বককে পরিষ্কার ও উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের গভীরে জমে থাকা ময়লা ও অতিরিক্ত তেল দূর করে, ফলে ত্বক দেখায় সতেজ ও প্রাণবন্ত। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের রঙ ধীরে ধীরে সমান হতে শুরু করে এবং নিস্তেজ ভাব কমে যায়। যারা রোদে পোড়া বা ট্যানের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য ভাতের মার বেশ উপকারী হতে পারে।
ভাতের মার ত্বককে টানটান ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা স্টার্চ ত্বকের পোরস ছোট করতে সহায়তা করে, ফলে ত্বক আরও মসৃণ ও পরিপাটি দেখায়। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের ঢিলাভাব কমে এবং ফাইন লাইন বা বয়সের ছাপ দেরিতে দেখা দেয়। বিশেষ করে রাতে মুখ ধোয়ার পর ভাতের মার লাগালে ত্বক বেশি উপকার পায়।
ত্বকের ব্রণ ও ব্রণের দাগ কমাতেও ভাতের মার কার্যকর ভূমিকা রাখে। এতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান ত্বকের লালচে ভাব ও ফোলাভাব কমায়। একই সঙ্গে এটি ত্বকের ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখে, যার ফলে নতুন করে ব্রণ হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস পায়। ত্বক শান্ত ও আরামদায়ক অনুভূত হয়।
সংবেদনশীল ত্বকের জন্যও ভাতের মার তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। এটি ত্বকের জ্বালাপোড়া ও চুলকানি কমাতে সাহায্য করে এবং প্রাকৃতিক ময়েশ্চার হিসেবে কাজ করে। শুষ্ক ত্বকে নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক নরম ও আর্দ্র থাকে।
ভাতের মার ব্যবহারের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো চাল ধোয়া পরিষ্কার পানি ১০–১৫ মিনিট রেখে দিয়ে সেই পানি দিয়ে মুখ ধোয়া বা তুলো দিয়ে ত্বকে লাগানো। তবে দীর্ঘদিন রেখে দেওয়া ভাতের মার ব্যবহার করা উচিত নয়। নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে ভাতের মার হতে পারে ত্বকের যত্নে এক সহজ, নিরাপদ ও প্রাকৃতিক সমাধান।
বিথী রানী মণ্ডল/










