রোজায় ইফতার করার জন্য মাওয়া হতে পারে এক চমৎকার জায়গা

রোজার মাসে প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারকে সময় দেওয়া, একসঙ্গে বসে ইফতার করা এগুলোই সবচেয়ে বড় আনন্দ। কিন্তু একই জায়গায় প্রতিদিন ইফতার করলে অনেক সময় একঘেয়েমি চলে আসে। তাই মাঝেমধ্যে পরিবার নিয়ে একটু বাইরে গিয়ে খোলা বাতাসে, প্রকৃতির মাঝে ইফতার করলে রোজার সময়টা হয়ে ওঠে আরও আনন্দময় ও স্মরণীয়। ঢাকার আশপাশে এমন অনেক সুন্দর জায়গা আছে, যেখানে আপনি পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়িয়ে ইফতার করতে পারেন।

এই তালিকার শীর্ষে থাকবে মাওয়া। ঢাকার খুব কাছেই মুন্সিগঞ্জে অবস্থিত মাওয়া ঘাট ইতোমধ্যেই ইফতার ভ্রমণের জন্য খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিকেলের দিকে এখানে পৌঁছালে আপনি পদ্মা নদীর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। সূর্য যখন ধীরে ধীরে পশ্চিম আকাশে ডুবে যায়, তখন নদীর ওপর সেই রঙিন আভা পড়ে এক অসাধারণ পরিবেশ তৈরি করে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নদীর ধারে বসে ইফতার করা এটা সত্যিই অন্যরকম একটি অভিজ্ঞতা। এখানকার বিশেষ আকর্ষণ হলো টাটকা ইলিশ ভাজা, ভর্তা, ডাল ও গ্রামীণ স্বাদের নানা খাবার।

মাওয়া এলাকার কাছাকাছি আরও একটি দারুণ স্পট হলো পদ্মা রিসোর্ট। এটি একটি নিরিবিলি, সবুজে ঘেরা রিসোর্ট, যেখানে পরিবারের সবাই নিয়ে আরাম করে সময় কাটানো যায়। এখানে নদীর তীরে বসার সুন্দর জায়গা রয়েছে, শিশুদের জন্য খেলার মাঠ আছে, এমনকি রাত যাপনের ব্যবস্থাও আছে।  চাইলে বিকেলে গিয়ে ঘুরে বেড়িয়ে, ইফতার করে, কিছুটা সময় কাটিয়ে আবার ঢাকায় ফিরে আসতে পারেন।

যারা ঢাকার ভেতরেই থাকতে চান, তাদের জন্য চমৎকার একটি জায়গা হলো হাতিরঝিল। শহরের মাঝখানে হয়েও এটি অনেকটা শান্ত পরিবেশ দেয়। ইফতারের সময় লেকের ধারে বসে খোলা আকাশের নিচে খাবার খাওয়া, এরপর ব্রিজের ওপর দিয়ে হালকা হাঁটা এটি পরিবার ও শিশুদের জন্য দারুণ একটি অভিজ্ঞতা হতে পারে। সন্ধ্যার পর হাতিরঝিলের আলোয় আলোকিত দৃশ্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

আরেকটি ভালো অপশন হতে পারে গুলশান লেক পার্ক। এটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ এবং পরিবারের জন্য উপযোগী একটি স্থান। এখানে বসে ইফতার করা যায়, শিশুদের নিয়ে হাঁটাহাঁটি করা যায়, আর চারপাশের সবুজ পরিবেশ মনকে সতেজ করে দেয়। যারা একটু শান্ত ও কম ভিড়ের মধ্যে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য এটি উপযুক্ত।

প্রকৃতির আরও কাছাকাছি যেতে চাইলে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান হতে পারে চমৎকার একটি পছন্দ। গাজীপুরে অবস্থিত এই জাতীয় উদ্যানে বিশাল বনাঞ্চল, খোলা মাঠ ও নিরিবিলি পরিবেশ রয়েছে। বিকেলের দিকে সেখানে গিয়ে পরিবার নিয়ে বসে ইফতার করলে শহরের কোলাহল থেকে দূরে এক অনন্য প্রশান্তি পাওয়া যায়। তবে এখানে গেলে খাবার ও পানির ব্যবস্থা আগে থেকেই করে নেওয়া ভালো।

ইফতার ভ্রমণে গেলে কিছু বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। যেমন সময়মতো পৌঁছানো, যাতে মাগরিবের আগে বসে পড়া যায় পর্যাপ্ত পানি ও হালকা পুষ্টিকর খাবার রাখা; নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা  এবং পরিবেশ পরিষ্কার রাখা। বাইরে গিয়ে ইফতার করলে জায়গাটি নোংরা না করা এবং নিজের ব্যবহৃত সব আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা আমাদের দায়িত্ব।

রোজার দিনে পরিবার নিয়ে একটু বাইরে গিয়ে ইফতার করা শুধু একটি ভ্রমণ নয় এটি হয়ে ওঠে ভালোবাসা, বন্ধন ও আনন্দ ভাগাভাগির একটি বিশেষ মুহূর্ত। আপনি যদি সঠিক জায়গা নির্বাচন করেন এবং পরিকল্পনা করে যান, তাহলে একটি সাধারণ ইফতারও হয়ে উঠতে পারে জীবনের সুন্দর একটি স্মৃতি। চাইলে আপনার পরিবারের সদস্য সংখ্যা, বাজেট এবং যাতায়াতের সুবিধা অনুযায়ী আমি একটি সম্পূর্ণ ইফতার ট্রিপ প্ল্যানও সাজিয়ে দিতে পারি।

-বিথী রানী মণ্ডল