শীতের সকালের কুয়াশা ভেদ করে আসা নরম রোদ আর এক বাটি ধোঁয়া ওঠা দুধ চিতই—এই স্বাদ যেন শুধু খাবার নয়, এক টুকরো নস্টালজিয়া। গ্রামবাংলার উঠানে একসময় রসের হাঁড়ি, মাটির চুলা আর গল্পে-হাসিতে মুখর হয়ে উঠত পিঠার আয়োজন। সেই দিনগুলো হয়তো বদলে গেছে, কিন্তু স্বাদটা এখনো চাইলে ফিরিয়ে আনা যায় নিজের রান্নাঘরেই।
উপকরণ:
পিঠার গোলার জন্য:
আতপ চালের গুঁড়ো (শুকনো বা ভেজা): ৩ কাপ
কুসুম গরম পানি: পরিমাণমতো
লবণ: সামান্য
দুধ-রসের মিশ্রণের জন্য:
খেজুরের ফ্রেশ রস: ১ থেকে ১.৫ লিটার
তরল দুধ: ১ লিটার (জ্বাল দিয়ে ঘন করা)
নারিকেল কোড়ানো: ১ কাপ
এলাচ ও দারুচিনি: ২-৩টি
ধাপ ১: পিঠার গোলা তৈরি
প্রথমে চালের গুঁড়োর সাথে সামান্য লবণ মিশিয়ে নিন। এবার অল্প অল্প করে কুসুম গরম পানি দিয়ে একটি মাঝারি ঘনত্বের গোলা তৈরি করুন। গোলার সাথে ২ টেবিল চামচ রান্না করা ভাত সামান্য পানি দিয়ে ব্লেন্ড করে মিশিয়ে দিন। এতে পিঠা সারা রাত ভিজলেও ভাঙবে না এবং খুব নরম হবে। গোলাটি ১ ঘণ্টা ঢেকে রাখুন।
ধাপ ২: পিঠা তৈরি
মাটির খোলাম বা লোহার পিঠা তৈরির ছাঁচ ভালো করে গরম করে নিন। সামান্য তেল ও পানির মিশ্রণ দিয়ে ছাঁচটি মুছে নিন। এবার গোলা দিয়ে ঢাকনা দিয়ে দিন। ৩-৪ মিনিট পর পিঠাগুলো তুলে নিন। মনে রাখবেন, পিঠার পেছনে ফুটো ফুটো হলে তবেই তা রস ভালোমতো শুষে নেবে।
ধাপ ৩: রস ও দুধের জ্বাল
একটি বড় হাড়িতে খেজুরের রস এলাচ-দারুচিনি দিয়ে জ্বাল দিতে থাকুন। রস ফুটে উঠলে এবং কিছুটা ঘন হয়ে এলে আলাদা করে জ্বাল দেওয়া ঘন দুধ তাতে মিশিয়ে দিন। সাথে কোড়ানো নারিকেল দিয়ে দিন। (সাবধানতা: দুধ ও রস দুটাই গরম অবস্থায় মেশালে অনেক সময় ফেটে যায়, তাই একটি চুলা থেকে নামিয়ে কিছুটা ঠান্ডা করে মেশানো ভালো)।
ধাপ ৪: পিঠা ভেজানো
তৈরি করা গরম পিঠাগুলো সরাসরি এই গরম দুধ-রসের মিশ্রণে ছেড়ে দিন। পিঠা অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা বা সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন।
বিশেষ প্রো-টিপস :
”পিঠা নরম করার গোপন সূত্র হলো, রস ও দুধের মিশ্রণটি যেন খুব বেশি ঘন না হয়। পিঠা যখন রস শুষে নেবে, ঝোল এমনিতেই ঘন হয়ে যাবে। আর যারা আরও বেশি স্বাদ চান, তারা রসের বদলে ভালো মানের নলেন গুড় ব্যবহার করতে পারেন।”
পরিবেশন:
সকালে ঘুম থেকে উঠে ঠান্ডা ঠান্ডা দুধ চিতই মাটির থালায় পরিবেশন করুন। নারিকেলের কচকচে ভাব আর রসের মোহনীয় ঘ্রাণ আপনার দিনটি স্মরণীয় করে রাখবে।
বিথী রানী মণ্ডল/










