ঠোঁটের কালো ভাব দূর করতে লেবু ব্যবহার

ঠোঁটের কালো ভাব বা গাঢ় রঙ অনেকেরই সমস্যার কারণ হয়ে থাকে। এটি শুধু রূপসৌন্দর্য নষ্ট করে না, বরং শরীরের কিছু অভ্যন্তরীণ সমস্যা বা অভ্যাসের প্রতিফলনও হতে পারে। সাধারণত ধূমপান, অতিরিক্ত চা-কফি পান, রোদে দীর্ঘ সময় থাকা, ঠোঁট শুষ্ক থাকা, ডিহাইড্রেশন এবং কখনও কখনও ভিটামিন ‘বি’ বা আয়রনের ঘাটির কারণে ঠোঁটের রঙ গাঢ় হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ঘরোয়া উপায় হিসেবে লেবু একটি সহজ, সাশ্রয়ী ও কার্যকর সমাধান।

লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ এবং সাইট্রিক অ্যাসিড থাকে। এই উপাদানগুলো ঠোঁটের মৃত চামড়া সরাতে সাহায্য করে, দাগ হ্রাস করে এবং ঠোঁটকে প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যবান রাখে। এছাড়া লেবুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ ঠোঁটকে ফ্রি র‌্যাডিকেল থেকে রক্ষা করে। তবে লেবু সরাসরি ব্যবহার করলে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, তাই ব্যবহার করার সময় সতর্কতা নেওয়া জরুরি।

লেবু ব্যবহার করার কিছু কার্যকর পদ্ধতি

১. লেবুর সরাসরি মালিশ:

  • একটি ছোট লেবুর ফালি কেটে ঠোঁটের ওপর হালকাভাবে ঘষুণ।
  • ১–২ মিনিট রেখে, গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • সপ্তাহে ২–৩ বার ব্যবহার করলে ঠোঁটের কালচে ভাব হ্রাস পেতে শুরু করবে।

২. লেবু + মধু প্যাক:

  • এক চা চামচ লেবুর রস ও ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে ঠোঁটে লাগান।
  • ১০–১৫ মিনিট রাখার পর ধুয়ে ফেলুন।
  • মধু ঠোঁটকে নরম রাখে এবং লেবুর অ্যাসিডের প্রভাব কমায়, ফলে সংবেদনশীল ঠোঁটেও ব্যবহার করা যায়।

৩. লেবু + নারকেল তেল বা জুঁই তেল:

  • এক চা চামচ লেবুর রস এবং এক চা চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে রাতের ঘুমের আগে ঠোটে লাগান।
  • এটি ঠোঁটকে হাইড্রেট রাখে, কালচে ভাব কমায় এবং সকালে নরম ও উজ্জ্বল ঠোঁট পাওয়া যায়।

সতর্কতা টিপস:

  • ঠোঁট ফাটল বা সংক্রমণ থাকলে লেবু ব্যবহার করবেন না।
  • লেবু ব্যবহারের পর ঠোঁট শুষ্ক হয়ে গেলে অবশ্যই লিপ বাম বা ভ্যাসলিন ব্যবহার করুন।
  • অতিরিক্ত ব্যবহারে ঠোঁট সংবেদনশীল হতে পারে।
  • রোদে বের হওয়ার আগে এসপিএফযুক্ত লিপ বাম ব্যবহার করুন।
  • ধূমপান, চা-কফি সীমিত করা ও পর্যাপ্ত পানি পান করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিয়মিত লেবু ব্যবহার করলে ২–৩ সপ্তাহের মধ্যে ঠোঁটের কালচে ভাব কমতে শুরু করবে। আরও ভালো ফলের জন্য সপ্তাহে ২–৩ বার স্ক্রাব করা, প্রতিদিন লিপ বাম ব্যবহার করা এবং শরীর হাইড্রেট রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি বা অতিরিক্ত কালচে ভাব থাকলে কোনো স্বাস্থ্যগত কারণে হতে পারে, তাই ডাক্তার বা ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

বিথী রানী মণ্ডল/