মঞ্চ প্রস্তুত, উত্তেজনা তুঙ্গে, কিন্তু ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ইতিমধ্যেই বিতর্কের মধ্যে পড়ে গেছে। এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও আগ্রহকে ঘিরে ইউরোপজুড়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে, এমনকি কিছু দেশে বিশ্বকাপ বয়কট-এর সম্ভাবনার কথাও উঠেছে।
গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীনে থাকা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ডেনমার্ক ন্যাটোর সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র। গ্রিনল্যান্ডে কোনো হুমকি শুধুমাত্র ডেনমার্ক নয়, ন্যাটো ও ইউরোপের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ট্রাম্পের আগ্রহ ইউরোপে ভালোভাবে গ্রহণ করা হয়নি।
ফ্রান্সে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন বামপন্থি আইনপ্রণেতা এরিক কোকুয়েরেল। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, এমন দেশে বিশ্বকাপ খেলা কি সম্ভব যেখানে প্রতিবেশীর ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করা হচ্ছে এবং জাতিসংঘকে কার্যহীন করা হচ্ছে? কোকুয়েরেল মনে করছেন, এখনো চাইলে মেক্সিকো ও কানাডায় পুরো আয়োজন সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ আছে।
তবে ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, সরকার বিশ্বকাপ বয়কটের কথা ভাবছে না। তিনি বলেন, খেলাধুলাকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখা প্রয়োজন, কারণ ২০২৬ বিশ্বকাপ সারা বিশ্বের ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্রান্স শেষবার বিশ্বকাপ জিতেছিল ২০১৮ সালে, আর ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও তারা ফাইনাল খেলেছিল। ইউরোপের অন্য দেশ স্কটল্যান্ডও ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরছে, তবে তারা বয়কটের পথে যাচ্ছে না। স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির নেতা স্টিফেন ফ্লিন কৌতুক করে বলেন, তারা তো কার্যত ১৯৯৮ সাল থেকে বিশ্বকাপ বয়কট করে আসছে। তিনি যোগ করেন, বয়কটের পরিবর্তে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সংলাপই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের ‘হোম নেশন’-এর কিছু এমপি বিশ্বকাপ বয়কটের দাবি তুলেছিলেন। তবে ইতিমধ্যেই ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে, এবং ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডও প্লে-অফে অংশ নিয়ে বিশ্বকাপে ওঠার চেষ্টা করছে।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে না দিলে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডের পণ্যের ওপর ১০% শুল্ক আরোপ করা হবে, যা জুনের মধ্যে না হলে ২৫% পর্যন্ত বাড়ানো হবে।
-মীর মোমিন










