স্লট যদি ভেবে থাকেন নতুন বছরটা ধামাকা দিয়ে শুরু করবেন, তবে ২০২৬ সালে লিভারপুলের প্রথম ম্যাচটি তাকে চরম হতাশ করেছে। গত বছরটা উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর, বর্তমান প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা আশা করবে বৃহস্পতিবার লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে তাদের এই ফ্যাকাশে পারফরম্যান্স যেন সামনের দিনগুলোর প্রতিচ্ছবি হয়ে না দাঁড়ায়।
গত গ্রীষ্মে অনেকেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে আর্ন স্লট অ্যানফিল্ডে একটি রাজত্ব গড়ে তুলবেন। কিন্তু বর্তমানে লিগ লিডার আর্সেনালের চেয়ে ১২ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা এবং গতবারের শিরোপাজয়ী সেই দাপট হারিয়ে ফেলা দলটিকে দেখে এটা স্পষ্ট যে, ডাচ কোচের এখন প্রধান কাজ হলো দলের খেলায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা।
শরৎকালে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১২ ম্যাচের মধ্যে ৯টিতে হেরে ভয়াবহ সময় পার করার পর, উৎসবের মৌসুমে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছিল। ইন্টার মিলান, ব্রাইটন এবং টটেনহ্যামের মতো দলগুলোকে সাম্প্রতিক সময়ে হারিয়েছিল তারা।
ড্যানিয়েল ফার্কের দলের বিপক্ষে এই ড্রয়ের ফলে অলরেডরা টানা আট ম্যাচে অপরাজিত রইল এবং পয়েন্ট টেবিলে তৃতীয় স্থানে থাকা অ্যাস্টন ভিলার আরও কাছে পৌঁছাল। কিন্তু বৃহস্পতিবার অ্যানফিল্ডের পরিবেশ মোটেও উৎসবমুখর ছিল না। পুরোনো সমস্যাগুলো আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এবং লিভারপুলকে দেখে মনে হয়েছে তাদের পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।
স্লটের ৮৪ ম্যাচের মেয়াদে এটিই ছিল প্রথম গোলশূন্য ড্র এবং ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ড্রয়ের পর অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের প্রথম। গত মৌসুমের শুরুর পর থেকে লিগ ম্যাচে লিভারপুলের গোল করতে ব্যর্থ হওয়ার এটি মাত্র চতুর্থ ঘটনা। তবে চিন্তার বিষয় হলো, শেষ নয়টি লিগ ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই তারা গোল করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা তাদের সাম্প্রতিক আক্রমণভাগের দুর্বলতাকেই নির্দেশ করে।
লিডসের বিপক্ষে প্রথমার্ধে লিভারপুলের আক্রমণে কিছুটা ধার ছিল; বিশেষ করে যখন জেরেমি ফ্রিম্পংয়ের জোরালো ক্রস থেকে হুগো একিতিকের কাছ থেকে নেওয়া হেড রুখে দেন গোলরক্ষক লুকাস পেরি। তবে বিরতির পর স্বাগতিকরা লক্ষ্যে মাত্র একটি শট নিতে পারে-যা ছিল ডমিনিক সোবোসলাইয়ের দূরপাল্লার শট। এছাড়া সেট পিস থেকে ভার্জিল ভ্যান ডাইক সেরা সুযোগটি পেলেও তা লক্ষ্যে রাখতে ব্যর্থ হন।
আগস্টের শেষের পর (নিউক্যাসলের বিপক্ষে ড্র) থেকে লিডস লিগে কোনো ‘ক্লিন শিট’ রাখতে পারেনি এই বিষয়টি বিবেচনায় নিলে লিভারপুলের আক্রমণের ধারহীনতা আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্লট বলেন, “বক্সের আশেপাশে এত ভালো ডিফেন্ড করা দলের বিপক্ষে গোল করার কয়েকটি উপায় থাকে। সেট পিস একটি উপায়, আমরা ভার্জিলের মাধ্যমে কাছে গিয়েছিলাম। আরেকটি উপায় হলো ব্যক্তিগত দক্ষতা, যেমনটা উলভসের বিপক্ষে ফ্রিম্পং দেখিয়েছিল। আমাদের পজেশন সবচেয়ে বেশি, কিন্তু যদি পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি করা না যায় তবে তার কোনো মূল্য নেই। ‘লো ব্লক’-এর বিপক্ষে সুযোগ তৈরি করতে গতি এবং ব্যক্তিগত জাদুকরী মুহূর্তের প্রয়োজন।”
উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে সদ্য প্রমোশন পাওয়া লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে দুটি লিগ ম্যাচের কোনোটিতেই জিততে পারেনি আর্ন স্লট ও লিভারপুল।
অবশ্যই, লিডস তাদের লড়াকু পারফরম্যান্সের জন্য কৃতিত্বের দাবিদার। অ্যানফিল্ডে আসার আগে তারা টানা পাঁচ ম্যাচ অপরাজিত ছিল। তারা এখান থেকে তিন পয়েন্টও নিয়ে ফিরতে পারত, যদি না ডমিনিক ক্যালভার্ট-লুইনের শেষ মুহূর্তের গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হতো।
ম্যাচের শেষদিকে স্লট জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে পরিবর্তন এনেছিলেন, ফ্লোরিয়ান ভার্টজকেও তুলে নেওয়া হয়। চলতি মৌসুমে লিভারপুলের বেঞ্চ থেকে আসা খেলোয়াড়রা মিলে মাত্র ৮টি লিগ গোল করেছে, যা প্রমাণ করে স্লটের হাতে গেম-চেঞ্জারের অভাব রয়েছে।
মোহামেদ সালাহ মিশরের হয়ে আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসে আছেন এবং রেকর্ড ট্রান্সফার ফি-তে আসা আলেকজান্ডার ইসাক গোড়ালির অস্ত্রোপচারের কারণে কয়েক মাস মাঠের বাইরে। জানুয়ারির ট্রান্সফার উইন্ডোতে লিভারপুলের শক্তিবৃদ্ধি প্রয়োজন। গত গ্রীষ্মে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করা সত্ত্বেও স্কোয়াডটি ভারসাম্যহীন মনে হচ্ছে। কোডি গাকপো এবং ১৭ বছর বয়সী রিও এনগুমোহা ছাড়া বর্তমানে দলে ফিট থাকা কোনো ন্যাচারাল উইঙ্গার নেই।
এনগুমোহা অল্প সময়ের জন্য নেমে ঝলক দেখালেও লিভারপুলের শক্তিশালী রক্ষণভাগের তুলনায় তাদের তোতলানো আক্রমণভাগ জ্বলে উঠতে পারেনি।
স্কাই স্পোর্টসকে ফ্রিম্পং বলেন, “এটি সত্যিই হতাশাজনক। আমরা জিততে চেয়েছিলাম। লিডস ভালো ডিফেন্ড করেছে। দিনশেষে ০-০ ড্র খুবই হতাশাজনক, তবে এখন পরের ম্যাচের দিকে তাকাতে হবে। অবশ্যই আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমার মনে হয় আমার ক্রসগুলো আরও ভালো হওয়া উচিত ছিল।”
বৃহস্পতিবার মাঠ ও গ্যালারিতে এই হতাশা স্পষ্ট ছিল। সামনে ফুলহ্যাম ও আর্সেনালের বিপক্ষে কঠিন অ্যাওয়ে ম্যাচ থাকায় লিভারপুল চাইবে তাদের আক্রমণভাগ যেন দ্রুত জ্বলে ওঠে।










