ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. রুবেল আহমেদকে ৬ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। রুবেল এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এই রিমান্ডের আদেশ দেন।
এদিন দুপুরে সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুল কাদির ভূঞা আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর জামাল উদ্দিন মার্জিন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। উভয় পক্ষ শুনে আদালত রুবেলের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে বুধবার দিবাগত রাতে কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাচ্ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে পল্টন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুষ্কৃতকারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পি ও ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেছিল। তবে ডিবি’র দেওয়া ওই চার্জশিটে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার কথা উল্লেখ থাকলেও বাদীপক্ষ এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে। গত ১৫ জানুয়ারি ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের আদালতে নারাজি আবেদন করলে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
সিআইডি তদন্তভার গ্রহণ করার পর রুবেলকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী ২৫ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে।
-লামিয়া আক্তার










