ল্যাব রিপোর্টে স্বাক্ষরের অধিকারে নোবিপ্রবিতে মানববন্ধন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্যাথলজি ল্যাব রিপোর্টে কেবল চিকিৎসকদের স্বাক্ষরের নির্দেশনার প্রতিবাদে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বুধবার শহীদ মিনারে বৈষম্যবিরোধী মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্যাথলজিক্যাল ল্যাব রিপোর্টে স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান (বায়োকেমিস্ট্রি) গ্র্যাজুয়েটদের বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে এই নির্দেশনাকে ‘চরম বৈষম্যমূলক’ হিসেবে আখ্যা দেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, গত ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক জরুরি নির্দেশনায় উল্লেখ করেছে যে, প্যাথলজি ল্যাব রিপোর্টে শুধুমাত্র বিএমডিসি রেজিস্টার্ড চিকিৎসকরাই স্বাক্ষর করতে পারবেন। একে হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে শিক্ষার্থীরা বলেন, ৫ আগস্টের পর বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশের প্রত্যাশা থাকলেও এই সিদ্ধান্ত তাদের পেশাদারিত্বকে চরমভাবে অবমূল্যায়ন করেছে। তারা অবিলম্বে এই অযৌক্তিক নির্দেশনা বাতিলের দাবি জানান।

সমাবেশে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. সুবোধ কুমার সরকার বলেন, “আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে চিকিৎসকদের পাশাপাশি ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদেরও ল্যাব রিপোর্টে স্বাক্ষরের বৈধতা দিতে হবে।” বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক যেকোনো মূল্যে শিক্ষার্থীদের অধিকার ফিরিয়ে আনার সংকল্প ব্যক্ত করেন।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, তারা চিকিৎসকদের প্রতিপক্ষ নন, বরং দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সহযোগী হিসেবে কাজ করতে চান। অবিলম্বে এই স্মারকের ৫ নং অনুচ্ছেদ সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি না করলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।

মালিহা