কৃষি গুচ্ছের মেধা তালিকায় দেশসেরা ফেরদৌসের ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর মেধাবী ছাত্র ফেরদৌস আহম্মেদ কৃষি গুচ্ছ পরীক্ষায় দেশসেরা হয়েও চরম অর্থসংকটে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছেন না।

অদম্য মেধা আর দারিদ্র্যের লড়াইয়ে জয়ী হয়েও স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কায় দিন কাটছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী ফেরদৌস আহম্মেদের। সম্প্রতি প্রকাশিত কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় সারা দেশে প্রথম স্থান অর্জন করেও কেবল অর্থের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া এখন তার কাছে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ফেরদৌস নাগেশ্বরী উপজেলার বেরুবাড়ী ইউনিয়নের নামদানীটারী গ্রামের প্রয়াত মোয়াজ্জিন আলী আজগারের ছেলে। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারানোর পর শয্যাশায়ী মা ফিরোজা বেগমকে নিয়ে শুরু হয় তার জীবনযুদ্ধ। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে আছে কেবল এক চিলতে বসতভিটা। বই কেনার টাকা না থাকায় ২০২৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় বসতে পারেননি তিনি। তবে দমে না গিয়ে পরবর্তী বছর জিপিএ-৪.৫৮ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

এরপর শুরু হয় উচ্চশিক্ষার যুদ্ধ। কোচিং করার সামর্থ্য না থাকলেও বন্ধুর সহযোগিতায় অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে প্রস্তুতি নিয়ে কৃষি গুচ্ছ পরীক্ষায় অংশ নেন। ফলাফলে ৯৩.৭৫ নম্বর পেয়ে সারা দেশে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। মেধা তালিকায় শীর্ষে থাকায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ময়মনসিংহ) তার ভর্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আগামী ২৪ জানুয়ারি ভর্তির শেষ সময় হলেও প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে পারেনি তার পরিবার। ফেরদৌস জানান, ভর্তি ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য যে অর্থের প্রয়োজন, তা জোগাড় করা তার একার পক্ষে অসম্ভব। এমন পরিস্থিতিতে নিজের লালিত স্বপ্ন পূরণ ও উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। সাহায্য পাঠানোর জন্য অথবা যোগাযোগ করতে ০১৫১৬-৫৮০৫৪৮ (বিকাশ) নম্বরটি ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী।

মালিহা