আনোয়ারার নিরাপত্তাপ্রহরী আবু বক্করের মেয়ে ইসরাত জাহান তুহিন চরম দারিদ্র্য জয় করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ৩৩৪তম স্থানসহ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি ইউনিটে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
চট্টগ্রামের আনোয়ারার এক দুর্গম গ্রামের জীর্ণ কুটির থেকে উঠে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন অদম্য মেধাবী ইসরাত জাহান তুহিন। বাবা আবু বক্কর পটিয়ার একটি এটিএম বুথে মাত্র ১০ হাজার টাকা বেতনে নিরাপত্তাপ্রহরীর কাজ করেন। বাবার রাতজাগা পরিশ্রম আর মেয়ের নীরব সাধনায় অর্জিত এই সাফল্য এখন পুরো জেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) পটিয়া শাখার বুথে প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ডিউটি করেন আবু বক্কর। বাবার কষ্টের প্রতিদান দিতেই তুহিন দিনরাত এক করে পড়াশোনা করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ‘খ’ ইউনিটে ৩৩৪তম হওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’, ‘গ’ ও ‘ঘ’ ইউনিটেও মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন।
তুহিন তার সংগ্রামের কথা জানিয়ে বলেন, “বাবা সারারাত দাঁড়িয়ে ডিউটি করে ভোরে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরতেন। বাবার ঘুম যেন না ভাঙে, তাই আমি খুব সাবধানে ও নিভৃতে পড়তাম। কখনো অর্থের অভাবে অর্ধেক পথ হেঁটে কোচিংয়ে গিয়েছি, কখনো বন্ধুদের কাছ থেকে ধার নিয়েছি। আজ বাবার মুখে হাসি দেখে সব কষ্ট সার্থক মনে হচ্ছে।”
পটিয়া সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করা এই শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তার কোচিং শিক্ষক তানভীর আহমেদ ও ইউসিবিএল ব্যাংকের ম্যানেজার মোয়াজ্জেম হোসেন। তাদের আর্থিক ও মানসিক সহযোগিতায় ইসরাত তার স্বপ্ন ছুঁতে পেরেছেন। ভবিষ্যতে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত হয়ে দেশ সেবার স্বপ্ন দেখেন এই জয়িতা। তার এই সাফল্যে গর্বিত ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় এলাকাবাসী।










