জাবিতে সংবাদ সংগ্রহে বাধা দিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিনিধিকে মারধরের অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মারধর ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফুর রহমান। এ সময় জোর করে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তল্লাশিও চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে আয়োজিত ‘হিম উৎসব’ অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী আরিফুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক শিক্ষার্থী জানান, শুক্রবার রাতে আয়োজিত ‘হিম উৎসব’ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সংবাদকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। পালাগানের একপর্যায়ে দুজন শিক্ষার্থী সেখানে এসে বাধা দেন। এ নিয়ে আয়োজকদের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

এ সময় আরিফুর রহমান ভিডিও ও ছবি ধারণ করছিলেন। অভিযোগ ওঠে, তিনি আয়োজকদের পক্ষ নিয়ে কেবল বাধাদানকারী শিক্ষার্থীদের ভিডিও করছেন। একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁর মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা কেড়ে নেন এবং সংরক্ষিত ভিডিও ও ছবি দেখতে থাকেন। পরে সেগুলো ফেরত দিলেও আবার একজন জোর করে ক্যামেরা নেওয়ার চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ক্যামেরা ও লেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আরিফুর রহমানের অভিযোগ, সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইমন, দর্শন বিভাগের ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. সাহানুর রহমান সানজু এবং অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জন তাঁকে ঘিরে ধরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

আরিফুর রহমান বলেন, ইমন আমার হাত থেকে জোর করে মোবাইল ফোন নিয়ে ভিডিও দেখতে থাকেন। ক্যামেরা (সনি আলফা ৬৪০০) কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির মধ্যে ক্যামেরা ও লেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পরে জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিবসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন।

ঘটনার পর বিষয়টি সহকারী প্রক্টর আব্দুর রাজ্জাক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মেহেদী মামুনকে জানান আরিফুর রহমান।

আরিফুর রহমানের অভিযোগ, ঘটনার পর বাংলা বিভাগের ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমন বাবুসহ কয়েকজন পুনরায় সেখানে এসে তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। আমি তাদের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেছি – এ কথা বলেই দ্বিতীয় দফায় আমাকে হুমকি দেওয়া হয়, বলেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর হামলাকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারও চালাচ্ছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী এবং কালের কণ্ঠের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রিফাত বিন নূর বলেন, দুই পক্ষের ঝামেলার মধ্যে আমরা সেখানে যাই। দেখি ১০–১৫ জন আরিফুর ভাইকে ঘিরে ধরে তাঁর ক্যামেরা ও মোবাইল নিয়ে টানাটানি করছে। পরিস্থিতি তখন প্রায় মবের রূপ নিয়েছিল।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব ভাইয়ের সহায়তায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও কিছুক্ষণ পর আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছবি চত্বর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মেহেদী মামুন বলেন, একজন সংবাদকর্মীর সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জাম জোর করে তল্লাশি করা, টানাটানি করা কিংবা হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত ইমন বাবু বলেন, আমি গিয়ে দেখি ৪৮ ও ৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তর্ক হচ্ছে। আমি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলাম।

জান্নাতুল নূর
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি