অতিরিক্ত ক্লান্তি, নিয়মিত রাত জাগা, মানসিক অবসাদ ও অত্যধিক ঘুম—এই সবকিছুই চোখের নিচে কালি বা ডার্ক সার্কেল তৈরির অন্যতম কারণ। এসব কারণে ত্বক ফ্যাকাশে ও নিস্তেজ দেখায়, অনেক সময় চোখের নিচে ফোলা ভাবও তৈরি হয়। এই ফোলাভাব থেকেই চোখের নিচে গাঢ় ছায়া পড়ে, যা মুখের সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডার্ক সার্কেল হওয়াও একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ত্বক পাতলা হয়ে যায় এবং ত্বকের কোলাজেন ও চর্বির পরিমাণ কমতে থাকে। কোলাজেন ও চর্বিই মূলত ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখে। এগুলো কমে গেলে চোখের নিচের রক্তনালিগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং অংশটি কালচে দেখায়।
দুধও চোখের নিচের কালিভাব দূর করতে কার্যকর। ঠান্ডা কাঁচা দুধে তুলা ভিজিয়ে চোখের ওপর কিছুক্ষণ রাখলে ত্বক ঠান্ডা থাকে এবং কালো ভাব কমে। কমলালেবুর রসে প্রাকৃতিক ব্লিচিং গুণ রয়েছে। কয়েক ফোঁটা গ্লিসারিন মিশিয়ে চোখের নিচে লাগালে উপকার পাওয়া যায়। শসা চোখ ঠান্ডা রাখতে সহায়ক। ঠান্ডা শসার স্লাইস চোখের নিচে লাগালে ফোলাভাব ও কালিভাব কমে। একইভাবে ব্যবহৃত টি-ব্যাগ ফ্রিজে ঠান্ডা করে চোখের নিচে রাখলেও দ্রুত পার্থক্য বোঝা যায়। নিয়মিত যত্নই পারে চোখের সৌন্দর্য ফিরিয়ে দিতে।
সমস্যা কমাতে জীবনযাপনে কিছু সহজ পরিবর্তন আনা জরুরি। স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা, নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা এবং হালকা শরীরচর্চা চোখের নিচের কালো দাগ কমাতে সহায়তা করে। স্ক্রিন টাইম সীমিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ঘুমাতে যাওয়ার আগে চোখের মেকআপ বা প্রসাধনী ভালোভাবে তুলে ফেলতে হবে। চাইলে ভিটামিন ই ক্যাপসুল, তেল বা আই ক্রিম নিয়মিত ব্যবহার করা যেতে পারে।
এ ছাড়া শরীরে পানির ঘাটতি বা পর্যাপ্ত পানি না পান করাও ডার্ক সার্কেলের একটি বড় কারণ। ডিহাইড্রেশন হলে চোখ অক্ষিকোটরের ভেতরে বসে যায়, ফলে চোখের নিচে কালো ভাব আরও বেশি চোখে পড়ে। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলেও চোখের নিচে কালি বাড়তে পারে।
প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েও চোখের নিচের কালিভাব কমানো সম্ভব। টমেটোর রস ত্বক নরম করতে এবং কালচে ভাব হালকা করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন চোখের নিচে টমেটোর রস লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে উপকার পাওয়া যায়। আমন্ড তেল চোখের ত্বকের জন্য খুব উপকারী। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে সামান্য আমন্ড তেল চোখের নিচে আলতো করে লাগালে দাগ ধীরে ধীরে হালকা হয়।
বিথী রানী মণ্ডল/










