গল্পের সরলতা হারিয়ে গেছে : মৌটুসী বিশ্বাস

অভিনয়শিল্পী মৌটুসী বিশ্বাস। এক সময় নিয়মিত পর্দায় দেখা যেত তাঁকে। গেল কয়েক বছর অভিনয়ে অনিয়মিত তিনি। ব্যস্ত হয়েছেন কৃষিকাজে। সম্প্রতি শ্যুটিং করেছেন একটি ১২ মিনিটের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে। গত বছর সচেতনতামূলক দুটো বিজ্ঞাপনচিত্রেও কাজ করেছেন এ গুণী অভিনেত্রী। নিজের কাজ ও অন্যান্য প্রসঙ্গে আলোকিত স্বদেশের সঙ্গে আলাপ করেছেন মৌটুসী।

সম্প্রতি একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাচ্ছি।
নির্মাতা আমাদের পারিবারিক বন্ধু। তিনি গল্পটি বলতেই রাজি হয়ে গেলাম। সময়োপযোগী একটি গল্প। ছবিটি দেখা হয়নি। আশা করছি ভালো একটি কাজ হবে।

গত ডিসেম্বরে একটি সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছেন। সে কাজটির অভিজ্ঞতা কেমন ছিলো?

এটি ছিলো মাহাথির স্পন্দনের কাজ। আমি তার কাজের ভক্ত। তার চিত্রনাট্য পেয়ে শ্যুটিংয়ের তারিখ জানতে চেয়েছি শুধু। বিজ্ঞাপনে আমার প্রচুর সংলাপ ছিলো। আমার কাছে সংলাপ পুরোটা একসাথে বললে আরাম লাগে। কষ্ট হলেও ধারাবাহিকতা থাকে। এখানেও তাই হয়েছে। শ্যুটিংয়ে মাথা তোলার সুযোগই পাইনি। এর আগে তার আরেকটি বিজ্ঞাপনচিত্রের কাজ করেছি। সেটিও সচেতনতামূলক কাজ।

অভিনয় কমিয়ে দিলেও আপনি একজন দর্শক। বর্তমান কাজের মান কেমন দেখছেন?

আগের তুলনায় কাজের কারিগরি মান বেড়েছে। কিন্তু গল্প বলার ধরনের মান বাড়েনি। আমাদের ভালো চিত্র নাট্যকারের অভাব। একটি গল্পের কিম্বা একটি চরিত্রের বিস্তারিত জানা যায় না। জানানো হয় না। গল্পের সরলতা হারিয়ে গেছে। আমাদের ট্রেইনিং ইনস্টিটিউশন নেই। তবুও আমাদের অভিনয়শিল্পীরা অনেক ভালো করছেন।

আপনি মাঝে বেশ কিছু কর্মশালা করেছেন . . .

দেশের বিভিন্ন ওয়ার্কশপের সঙ্গে অনলাইনে সালমান রুশদীর ওয়ার্কশপও করেছি। তিনি বলেন, গল্প লিখতে হলে মানুষ দেখতে হবে। ঘর–বাড়ি বিভিন্ন স্থাপনা দেখতে হবে। তবেই ভালো গল্প লেখা যাবে। আমি নিয়মিত খুলনায় যাতায়াত করি। পাবলিক বাসে করে যাই। খুব সাধারণ হোটেলে ভাত খাই। খাওয়া শেষে চায়ের দোকানে বসি। এভাবে মানুষের সাথে মিশি। তারা কী নিয়ে কথা বলে, কী ভাবে তা বোঝার চেষ্টা করি। মান সম্পন্ন কাজের জন্য এটা জরুরী।

অভিনয় কমিয়ে কৃষিকাজ করছেন। সন্তুষ্টি এসেছে?

যখন অভিনয় করতাম তখন ভালো লাগতো। একটা পর্যায়ে কাজের বৈচিত্র্য কমে যাচ্ছিলো। তাই সরে এসেছি। এখন ভালোবেসে কৃষিকাজ করছি। কীটনাশক ছাড়া ফসল ফলিয়েছি। মাছ উৎপাদনেও প্রচুর খরচ হচ্ছে। কিন্তু যারা বিষমুক্ত খাবার খেতে চায় তাদের কাছে যেতে যেতে মূল্য বেড়ে যায়। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ছাড়া দাম কমানো অসম্ভব।

মাহমুদ সালেহীন খান