ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য পৃথক দুইজন পুলিশ কমিশনার নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে একটি মেট্রোপলিটন পুলিশ কাঠামোর অধীনে বিশাল এই জনপদ পরিচালিত হওয়ায় প্রশাসনিক জটিলতা ও নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট জুলফিকার আলী জুনু স্বাক্ষরিত এই নোটিশে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগর বর্তমানে উত্তর ও দক্ষিণ নামে দুটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র সিটি করপোরেশনে বিভক্ত। উভয় করপোরেশনের নিজস্ব ভৌগোলিক সীমানা, বিপুল জনসংখ্যা এবং পৃথক প্রশাসনিক কাঠামো রয়েছে। প্রচলিত আইন ও সুশাসনের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি সিটি করপোরেশনের জন্য একজন করে পুলিশ কমিশনার থাকা অপরিহার্য।
নোটিশে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ এবং সংবিধানের ২১ ও ৫৫ অনুচ্ছেদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মৌলিক দায়িত্ব পালনের স্বার্থেই এই বিভাজন প্রয়োজন।
বর্তমানে ঢাকার দুই সিটির জন্য একজন মাত্র পুলিশ কমিশনার থাকায় বেশ কিছু সমস্যার কথা নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে:
প্রশাসনিক জটিলতা: বিশাল এলাকার দায়িত্ব একজন কমিশনারের ওপর থাকায় কার্যকর তদারকি ব্যাহত হচ্ছে।
সেবায় ধীরগতি: নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত পুলিশি সেবা প্রদানে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
আইনের ব্যত্যয়: এই ব্যবস্থাটি সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থি বলে নোটিশে দাবি করা হয়।
নোটিশে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য অবিলম্বে পৃথক পুলিশ কমিশনার নিয়োগের আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। লিগ্যাল নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে এই বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট আবেদনসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইনজীবী।