সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি: স্কুলভিত্তিক স্বাতন্ত্র্য রেখে খসড়া চূড়ান্ত

রাজধানীর সাতটি বড় সরকারি কলেজকে একীভূত করে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠনের অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দীর্ঘ আলোচনা ও আন্দোলনের পর আগের খসড়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে নতুন এই কাঠামো সাজানো হয়েছে। পরিমার্জিত খসড়া অনুযায়ী, কলেজগুলোর নিজস্ব পরিচয়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এবং বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ন থাকবে।

নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত ‘অনুষদ’ ব্যবস্থার পরিবর্তে ‘স্কুলভিত্তিক’ একাডেমিক কাঠামো প্রবর্তন করা হয়েছে। কলা, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান ও আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বয়ে একেকটি ‘স্কুল’ গঠিত হবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন একজন ‘হেড অব স্কুল’। তবে প্রথম খসড়ায় একেকটি কলেজকে নির্দিষ্ট বিষয়ের স্কুলে রূপান্তরের যে পরিকল্পনা ছিল, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আপত্তির মুখে তা বাতিল করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কলেজগুলো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সংযুক্ত কলেজ’ হিসেবে নিজস্ব ক্যাম্পাসে আগের মতোই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নিজস্ব একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সংযুক্ত কলেজগুলোর পাঠ্যক্রম নির্ধারণ, পরীক্ষা গ্রহণ ও সনদ প্রদান করবে। কলেজগুলোর অধ্যক্ষগণ নিজস্ব অভ্যন্তরীণ প্রশাসন ও শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকবেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস না হওয়া পর্যন্ত ভাড়া করা ভবনে কার্যক্রম শুরুর সংস্থান রাখা হয়েছে।

২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়া এই সাত কলেজকে নিয়ে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের একাডেমিক জটিলতা নিরসনেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পরিমার্জিত এই খসড়াটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। শিক্ষক ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নতুন এই কাঠামোর বিষয়ে ইতিবাচক সায় দিয়েছেন এবং দ্রুত অধ্যাদেশ জারির দাবি জানিয়েছেন।

-মালিহা