শীতের সকালে মধু খেলে সর্দি-কাশি দূরে থাকে

শীতের সকালে মধু খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি অভ্যাস। ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীর যেমন দুর্বল হয়ে পড়ে, তেমনি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও অনেক সময় কমে যায়। এ সময় সকালে ঘুম থেকে উঠে কুসুম গরম পানির সঙ্গে এক চামচ খাঁটি মধু খেলে শরীর পায় প্রাকৃতিক শক্তি ও সুরক্ষা।

শীতকালে সর্দি-কাশি একটি সাধারণ সমস্যা। মধুর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ সর্দি, কাশি ও গলাব্যথা প্রতিরোধে সাহায্য করে। সকালে মধু খেলে গলা পরিষ্কার থাকে এবং ঠান্ডার সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। বিশেষ করে যারা ধুলাবালি বা ঠান্ডা পরিবেশে কাজ করেন, তাদের জন্য এটি বেশ উপকারী।

মধু প্রাকৃতিক এনার্জি বুস্টার হিসেবে কাজ করে। শীতের সকালে অনেকেই অলসতা, ক্লান্তি বা ঝিমুনির অনুভূতি পান। মধুতে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা দ্রুত শরীরে শক্তি জোগায় এবং সারা দিনের কাজের জন্য শরীরকে প্রস্তুত করে। নিয়মিত মধু খেলে সকালের দুর্বলতা ও ঠান্ডাজনিত অবসাদ অনেকটাই কমে।

হজমশক্তি বাড়াতেও শীতের সকালে মধু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শীতকালে অনেকেরই হজমের সমস্যা দেখা দেয়। খালি পেটে মধু খেলে পাকস্থলীর কার্যকারিতা ভালো থাকে এবং গ্যাস, অম্বল বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা কমে। এতে থাকা প্রাকৃতিক এনজাইম খাবার হজমে সহায়তা করে।

ত্বকের যত্নেও মধুর উপকারিতা উল্লেখযোগ্য। শীতকালে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়। নিয়মিত মধু খেলে শরীর ভেতর থেকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে, ফলে ত্বক নরম ও উজ্জ্বল থাকে। একই সঙ্গে মধু শরীরের ভেতরের টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে, যা ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে শীতের সকালে মধু হতে পারে ভালো সঙ্গী। মধু শরীরের মেটাবলিজম সক্রিয় করে এবং অতিরিক্ত চর্বি জমতে বাধা দেয়। তবে অবশ্যই পরিমিত মাত্রায় খেতে হবে।

সবশেষে বলা যায়, শীতের সকালে নিয়মিত মধু খাওয়া শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, শক্তি জোগায় এবং সার্বিকভাবে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। তবে খাঁটি মধু ব্যবহার করা জরুরি এবং ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

-বিথী রানী মণ্ডল