খুলনার সাংবাদিক ওয়াহেদ-উজ-জামান বুলুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রাপ্ত ভিসেরা রিপোর্টে আত্মহত্যার আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। তবে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো হাতে আসেনি। খুলনা নৌ পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর দ্রুত চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছরের ৩১ আগস্ট সন্ধ্যায় রূপসার খানজাহান আলী সেতুর দুই নম্বর পিলারের পাইলক্যাপের ওপর থেকে সাংবাদিক বুলুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর ভাই আনিসুজ্জামান দুলু লবণচরা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় রূপসা নৌ পুলিশ ফাঁড়িকে।
রূপসা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবুল খায়ের জানান, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। ভিসেরা পরীক্ষার প্রতিবেদনে আত্মহত্যার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আগামী সপ্তাহে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
খুলনা নৌ অঞ্চলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, তদন্তের অংশ হিসেবে রূপসা সেতুর ওপর স্থাপিত দুটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, ৩১ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে সাংবাদিক বুলু নিজেই সেতু থেকে নিচে ঝাঁপ দেন। নদীতে না পড়ে প্রায় ৬০ ফুট নিচে কংক্রিটের পাইলক্যাপে আছড়ে পড়ায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এতে তাঁর চোয়াল, হাত ও পা মারাত্মকভাবে ভেঙে যায়।
ময়নাতদন্ত শেষে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ভিসেরা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়। প্রতিবেদনে হত্যা কিংবা খাবারের সঙ্গে কোনো রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে হত্যার আলামতের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিক বুলু দৈনিক বঙ্গবাণী, আজকের কাগজ, চ্যানেল ওয়ান, ইউএনবি ও দৈনিক প্রবাহসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। সর্বশেষ তিনি দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদে কর্মরত ছিলেন। তিনি খুলনা প্রেস ক্লাব ও খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুলুর প্রথম স্ত্রী এলিজা পারভীন লিজা মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন এবং গত ১১ মে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। এ ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বুলু। পরে তিনি তানিয়া সুলতানাকে বিয়ে করেন। তবে আর্থিকসহ নানা বিষয় নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গেও তার দাম্পত্য কলহ চলছিল।
এদিকে পিবিআই খুলনার পরিদর্শক কাজী মোস্তাক আহমেদ জানান, গত ৩০ জুলাই তানিয়া সুলতানা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এ সাংবাদিক বুলুর বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে। পরে ২৬ আগস্ট তানিয়া সুলতানা পিবিআই কার্যালয়ে এসে উভয়ের মধ্যে আপসনামা দাখিল করেন।
-আফরিনা সুলতানা










