নবীনগর বালু মহলে অবৈধতার খেসারত

ইজারাদার পায়েলমুক্তাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা, তদন্তের নির্দেশ নবীনগরের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত বালু মহল অবশেষে আইনের আওতায় এসেছে। দীর্ঘদিনের অভিযোগ, অনিয়ম ও প্রকাশ্য দাপটের পর বালু মহলের ইজারাদার পায়েলমুক্তাসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আদালতে একটি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। মামলাটি সিআর মামলা নং–৩৭/২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।

একই সঙ্গে আদালত মামলার বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন নবীনগর থানাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘স্বর্ণ মহল’ খ্যাত নবীনগরের এই বালু মহল দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছিল। এর ফলে একদিকে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে, অন্যদিকে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রতিবাদ করতে গেলেই স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নীরবতা এবং প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় বালু মহলটি কার্যত আইনের ঊর্ধ্বে চলে গিয়েছিল। ইজারা গ্রহণের পর থেকেই শর্ত লঙ্ঘন করে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখা হয়। বিভিন্ন সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আর্থিক জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হলেও তাতে কোনো কার্যকর পরিবর্তন আসেনি। অবৈধ বালু কাটার এই দৌরাত্ম্য চলছেই।

তবে এবার পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ায় নবীনগরজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। আইনজ্ঞদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পথ সুগম হবে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এটি কেবল একটি মামলা নয় বরং নবীনগরের অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও বঞ্চনার আইনি বহিঃপ্রকাশ। তারা আশা প্রকাশ করছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীরা চিহ্নিত হবে এবং নদী, পরিবেশ ও জনজীবন রক্ষায় দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর নবীনগর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

নবীনগরবাসীর প্রত্যাশা এখন একটাই এই মামলা যেন আর পাঁচটি ফাইলবন্দি ঘটনায় পরিণত না হয়ে অবৈধ বালু ব্যবসার লাগাম টেনে ধরে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।

শাহীন রেজা টিটু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া