গণশিক্ষা প্রকল্পের টাকা লোপাট: রাশেদুলের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ

নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে পরিচালিত ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (৮ম পর্যায়)’ প্রকল্পের ফিল্ড সুপারভাইজার রাশেদুল ইসলামের ৬টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে জমা দেওয়া দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাশেদুল ইসলাম প্রকল্পের পিএ (পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট) হিসেবে কর্মরত থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তিনি প্রকল্পের সরকারি ব্যাংক হিসাব থেকে লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে নিজের ব্যক্তিগত বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে সরিয়ে নিয়েছেন বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে এই দুর্নীতির বিষয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক।
দুদক জানায়, অনুসন্ধান চলাকালে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে যে, অভিযুক্ত রাশেদুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে সরিয়ে নেওয়া সরকারি অর্থ আত্মসাৎ বা অন্যত্র পাচারের চেষ্টা করছেন। এই অর্থ একবার সরিয়ে ফেলা হলে ভবিষ্যতে তা উদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই জনস্বার্থে এবং তদন্তের স্বার্থে তার নামে থাকা ৬টি ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন ও লেনদেন অবিলম্বে বন্ধ করা জরুরি।
আদালত দুদকের যুক্তি আমলে নিয়ে রাশেদুলের ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন। এর ফলে এখন থেকে এসব হিসাব থেকে কোনো টাকা উত্তোলন বা স্থানান্তর করা যাবে না।
উল্লেখ্য, ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ সরকারের একটি বড় প্রকল্প, যার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষা বিস্তার ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রচার করা হয়। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
লামিয়া আক্তার