নতুন দেশে গড়ারর চাবি এখন জনগণের হাতে: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টা

নতুন বাংলাদেশ গড়ার চাবি এখন জনগণের হাতে উল্লেখ করে প্রত্যাশার রাষ্ট্র গড়ে তুলতে গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’-তে সিল দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি দেশবাসীকে এই উদাত্ত আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টার এই বার্তাটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) একযোগে সম্প্রচারিত হয়।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অসাধারণ অর্জন। এই অভ্যুত্থান দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার যে সুযোগ এনে দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সনদের সুদূরপ্রসারী সংস্কারগুলোর জন্য জনগণের সরাসরি সম্মতি প্রয়োজন, আর সেই লক্ষ্যেই গণভোটের আয়োজন।”

 প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা করেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই এই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে বাংলাদেশ। আপনি নিজে সিল দিন এবং পরিচিত সবাইকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসুন। দেশ পাল্টে দিন।” জাতির উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা ‘জুলাই সনদে’র প্রধান প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরেন:

ক্ষমতার ভারসাম্য: প্রধানমন্ত্রী এককভাবে সব ক্ষমতা ভোগ করবেন না। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।

সংসদীয় সংস্কার: পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দল যৌথভাবে কাজ করবে।

সংবিধান ও বিচারব্যবস্থা: সরকার ইচ্ছেমতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না; বড় পরিবর্তনে জনগণের সম্মতি লাগবে। বিচারব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে।

মৌলিক অধিকার ও স্বীকৃতি: নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা, সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রভাষা বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষাকেও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা: দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না।

প্রফেসর ইউনূস তার ভাষণের শেষে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “ইনশাআল্লাহ সবাই মিলে দেশ গড়ার কাজে অংশ নেবো। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে।”

লামিয়া আক্তার