ঢাবির কনসার্টে ফ্রীতে সিগারেট বিতরণ নিয়ে বিতর্ক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘কুয়াশার গান’ কনসার্টে স্পন্সরের স্মোক জোন ও বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

শীতার্ত মানুষের সহায়তায় ‘স্পিরিটস অব জুলাই’ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘কুয়াশার গান’ কনসার্টে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কনসার্ট চলাকালে স্পন্সর প্রতিষ্ঠান হিসেবে থাকা এক তামাক কোম্পানির ছায়া প্রতিষ্ঠান ‘এক্স ফোর্স’-এর পরিচালিত স্মোক জোন এবং সেখানে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণের অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য ক্ষমা চান।

মুসাদ্দিক আলী জানান, কনসার্টের স্পন্সর সংক্রান্ত আলোচনা, চুক্তি বা শর্ত নির্ধারণে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘এক্স ফোর্স’ একটি “এক্সপেরিয়েন্স জোন” স্থাপনের কথা জানিয়েছিল, যেখানে বিভিন্ন ইভেন্টের পাশাপাশি একটি স্মোকিং জোন থাকবে, যাতে ধূমপানের কারণে অন্যদের অসুবিধা না হয়। তবে স্মোকিং জোনের ভেতরে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে সিগারেট দেওয়া হবে—এ বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেন।

স্ট্যাটাসে তিনি আরও উল্লেখ করেন, কনসার্ট আয়োজনের সিদ্ধান্তটি ছিল মূলত শিক্ষার্থীদের একটি অংশের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের প্রচেষ্টা। এ আয়োজন পুরোপুরি ডাকসুর সিদ্ধান্ত ছিল না এবং কনসার্টে তাঁর বাইরে ডাকসুর অন্য কোনো প্রতিনিধি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন না বলেও জানান তিনি।

স্পন্সর প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নিজের যাচাইয়ের সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন মুসাদ্দিক। তিনি বলেন, ‘এক্স ফোর্স’কে একটি নতুন লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং পূর্বে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কনসার্ট আয়োজনের নজির থাকায় তিনি সেটিকে ইতিবাচকভাবে দেখেছিলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও অভিযোগ দেখার পর বিষয়টি তাঁর নজরে আসে।

শেষে তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত এই অব্যবস্থাপনার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সম্মান নিশ্চিত করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মালিহা