ক্ষমতার অপব্যবহার ও হুমকির অভিযোগে বিটিসিএল ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডোমেইন বন্ধ করে দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির (ইউসেট) উপদেষ্টা তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে এই মামলা করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে সিআইডি-কে (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার নিম্ন আদালতের কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী নিজেই এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার আসামি যারা: মামলায় বিটিসিএলের মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ব্রডব্যান্ড-২) জয়ীতা সেন রিম্পী, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডোমেইন) মোস্তফা আল মাহমুদ ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (ডোমেইন) আবীর কল্যাণ আবেদীনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-২) মো. শাহ আলম সিরাজ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাকিবুজ্জামান মাসুদকেও মামলায় আসামি করা হয়।
অভিযোগের প্রেক্ষাপট: মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়, ইউসেট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের দুটি ডোমেইন (uset.ac.bd এবং uset.edu.bd) পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন না আনার জন্য আগে থেকেই বিটিসিএলকে অনুরোধ জানিয়ে আসছিল। কিন্তু গত বছরের ১৭ নভেম্বর বিটিসিএল থেকে ডোমেইন বিষয়ে আপত্তির কথা জানিয়ে কাগজপত্র ও ফি জমা দিতে বলা হয়। নির্ধারিত ফি জমা দিতে গেলে তা গ্রহণ না করে অসহযোগিতা শুরু করেন বিটিসিএল কর্মকর্তারা।
বাদীর অভিযোগ, গত ১৫ ডিসেম্বর বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে বিটিসিএলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জয়ীতা সেন রিম্পী তাকে অত্যন্ত কটু ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিটিসিএল এলাকায় তাকে আর না আসার হুমকি দেন। একইসঙ্গে হাইকোর্টের রিট সংক্রান্ত ল’ইয়ার্স সার্টিফিকেট গ্রহণ করতেও অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীকালে গত ১১ জানুয়ারি কোনো কারণ ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ডোমেইনই বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে প্রতিষ্ঠানের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।
আদালতের নির্দেশে এখন সিআইডি এই ঘটনার তদন্ত শুরু করবে। সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ও মামলার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
লামিয়া আক্তার