শান্তি চুক্তিতে বাধা পুতিন নন, জেলেনস্কি : ট্রাম্প

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মস্কো নয়, বরং কিয়েভই মূল প্রতিবন্ধক বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওভাল অফিসে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধের ইতি টানতে প্রস্তুত থাকলেও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অবস্থান এখনও ‘ধোঁয়াশাপূর্ণ’।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য কিয়েভের ইউরোপীয় মিত্রদের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত, যারা দীর্ঘ সময় ধরে মস্কোকেই শান্তি আলোচনার প্রধান বাধা হিসেবে অভিযুক্ত করে আসছে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “আমার মনে হয় রুশ প্রেসিডেন্ট চুক্তির জন্য প্রস্তুত। উল্টো ইউক্রেনই তেমন প্রস্তুত নয় বলে মনে হচ্ছে।” দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের দীর্ঘতম এই স্থলযুদ্ধ কেন এখনও থামছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এক শব্দে উত্তর দেন, “জেলেনস্কি।”

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যে ইউক্রেনীয় নেতৃত্বের প্রতি তার ক্রমবর্ধমান হতাশা পুনরায় স্পষ্ট হলো। যদিও হোয়াইট হাউসে ফেরার পর প্রথম দিকে জেলেনস্কির ওপর তিনি অধিক রুষ্ট ছিলেন, বর্তমানে সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক মনে হলেও নীতিগত অবস্থানে বড় ফাটল রয়ে গেছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ পরবর্তী ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতাকারীরা সম্ভাব্য চুক্তির স্বার্থে ইউক্রেনকে তার পূর্বাঞ্চলীয় ‘দনবাস’ এলাকা রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করছে। উল্লেখ্য, দনবাসের সিংহভাগ এলাকা বর্তমানে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মস্কো সাফ জানিয়ে দিয়েছে, চুক্তিতে রাজি না হলে তারা সামরিক পথেই পুরো এলাকা দখল করবে।

তবে জেলেনস্কি প্রকাশ্যে ভূখণ্ড ছাড়ার বিষয়টি বারবার প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। তার মতে, ইউক্রেনের সংবিধান অনুযায়ী দেশের ভূখণ্ড হস্তান্তরের কোনো আইনি এখতিয়ার কিইভ কর্তৃপক্ষের নেই।

ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বর্তমানে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে তাদের মস্কো সফরের সম্ভাবনার কথা বলা হলেও ট্রাম্প সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানেন না বলে জানান। অন্যদিকে, ইউরোপীয় দেশগুলো মার্কিন এই উদ্যোগকে সন্দেহের চোখে দেখছে। তাদের আশঙ্কা, পুতিন পুরো ইউক্রেন এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত কিছু ইউরোপীয় অংশ পুনর্দখলের পরিকল্পনা এখনও ত্যাগ করেননি।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আসন্ন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, “জেলেনস্কি সেখানে থাকলে দেখা হতে পারে, তবে কোনো পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি।” কেন জেলেনস্কি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারছেন না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিলেও শুধু যোগ করেন, “আমার মনে হয়, সেখানে (চুক্তি) পৌঁছাতে তার বেশ সমস্যা হচ্ছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই অবস্থান ইউক্রেনের ওপর মার্কিন সহায়তা বন্ধের প্রচ্ছন্ন হুমকি হতে পারে, যা জেলেনস্কিকে শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করতে পারে।

-এম. এইচ. মামুন