প্রাক-টুর্নামেন্ট ফেভারিট সেনেগাল বুধবার অনুষ্ঠিতব্য আফকন–এর প্রথম সেমিফাইনালে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সফল দল ইজিপ্টের মুখোমুখি হচ্ছে।
সুপারস্টার মোহাম্মদ সালাহ আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন) জয়ের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছেন। মরক্কোয় অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে ইজিপ্ট রেকর্ড অষ্টম শিরোপার লক্ষ্যে এগোচ্ছে।
৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগসহ বড় বড় শিরোপা জিতলেও আফ্রিকার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিটি এখনও তার অধরা। দুইবার আফকন–এর রানার্সআপ হওয়া সালাহ এবার সেই আক্ষেপ ঘোচাতে চান। তবে বুধবারের প্রথম সেমিফাইনালে তার সামনে বড় বাধা সেনেগাল।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে আফ্রিকার দ্বিতীয় সেরা দল সেনেগাল (বিশ্বে ১৯তম) গত চার আসরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো আফকন সেমিফাইনালে উঠেছে। সাদিও মানে ও কালিদু কুলিবালির মতো তারকায় ভরা এই দলের স্কোয়াডে নেই কোনো ঘাটতি।
এখানে সেনেগাল বনাম ইজিপ্ট ম্যাচের আগে যা জানা প্রয়োজন
সেনেগাল কীভাবে আফকন সেমিফাইনালে উঠেছে?
গ্রুপ ডি পর্বে সেনেগাল অপরাজিত থেকে দুটি জয় ও একটি ড্র নিয়ে ৭ পয়েন্ট অর্জন করে শীর্ষে থাকে। গোল ব্যবধানে তারা ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোকে পেছনে ফেলে।
শেষ ষোলোতে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়লেও সেনেগাল সহজেই সুদানকে ৩–১ গোলে হারায়। কোয়ার্টার ফাইনালে পশ্চিম আফ্রিকার প্রতিবেশী মালি’র বিপক্ষে ১–০ ব্যবধানে জয় পেয়ে প্রথম দল হিসেবে শেষ চারে জায়গা করে নেয়।
ইজিপ্ট কীভাবে সেমিফাইনালে উঠেছে?
গ্রুপ পর্বে ইজিপ্টও একই রকম পারফরম্যান্স করে। গ্রুপ বি থেকে ৭ পয়েন্ট নিয়ে তারা শীর্ষে থেকে শেষ ষোলোতে ওঠে।
শেষ ষোলোতে বেনিনকে ৩–১ গোলে হারানোর পর কোয়ার্টার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আইভরি কোস্টকে রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৩–২ ব্যবধানে হারিয়ে দেয় ইজিপ্ট।
রবিবারের আফকন ফাইনালে কার মুখোমুখি হবে বিজয়ী?
এই ম্যাচের জয়ী দল দ্বিতীয় সেমিফাইনালে নাইজেরিয়া ও স্বাগতিক মরক্কোর মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে।
সেনেগালের সেরা খেলোয়াড়রা কারা?
স্ট্রাইকার নিকোলাস জ্যাকসন ও সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার পাপে গেই দু’জনেই ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স দিয়েছেন এবং দু’জনই দুটি করে গোল করেছেন।
চেরিফ এনদিয়ায়েও দুটি গোল করেছেন, দুটিই বদলি হিসেবে নেমে।
অভিজ্ঞ উইঙ্গার সাদিও মানে এখনও সেনেগালের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। মিডফিল্ডার ইলিমান এনদিয়ের निर्णায়ক অবদান দলকে সেমিফাইনালে তুলেছে। ১৭ বছর বয়সী ইব্রাহিম এমবায়ে নিজের বয়সের তুলনায় অনেক বেশি পরিণত ফুটবল খেলছেন।
ইজিপ্টের সেরা খেলোয়াড়রা কারা?
মোহাম্মদ সালাহ এই টুর্নামেন্টে ইজিপ্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা (৪ গোল)। তিনি আফকন –এর সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজের পর দ্বিতীয় স্থানে আছেন।
টুর্নামেন্ট শুরুর সময় সালাহ নিজের স্বাভাবিক বিশ্বমানের ফর্মে ছিলেন না, তবে দ্রুতই তিনি ‘ইজিপশিয়ান কিং’ খ্যাতি পাওয়া সেই চেনা রূপে ফিরেছেন।
ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ড ওমর মারমুশ (২ গোল) ইজিপ্টের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি সেন্টার ব্যাক রামি রাবিয়া ও মিডফিল্ডার হামদি ফাতি রক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
সেনেগাল ও ইজিপ্টের ফর্ম গাইড
(সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে, সর্বশেষ ম্যাচ আগে)
সেনেগাল: জয়–ড্র–জয়–জয়–হার
ইজিপ্ট: জয়–জয়–ড্র–জয়–জয়
মুখোমুখি লড়াই: সেনেগাল ও ইজিপ্ট এর আগে প্রীতি ও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ মিলিয়ে মোট ১৫ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ইজিপ্ট ৭টি ম্যাচে জয় পেয়েছে, সেনেগাল জিতেছে ৬টি এবং ২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
সেনেগাল ও ইজিপ্ট সর্বশেষ কবে মুখোমুখি হয়েছিল?
দুই দল সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২০২২ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফে। সেই ম্যাচে পেনাল্টি শুটআউটে ৩–১ ব্যবধানে জিতে সেনেগাল বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়।
ওই ম্যাচে সালাহ একটি পেনাল্টি মিস করেছিলেন।
সেনেগাল কি কখনো আফকন জিতেছে?
এটি সেনেগালের আফকন–এ ১৮তম অংশগ্রহণ। তাদের সেরা সাফল্য ২০২১ সালে ক্যামেরুনে শিরোপা জয়।
এছাড়া তারা ২০০২ ও ২০১৯ সালে রানার্সআপ হয়েছিল।
ইজিপ্ট কি কখনো আফকন জিতেছে?
হ্যাঁ। ইজিপ্ট আফকন –এর রেকর্ড সাতবারের চ্যাম্পিয়ন।
তারা ১৯৫৭, ১৯৫৯, ১৯৮৬, ১৯৯৮, ২০০৬, ২০০৮ ও ২০১০ সালে শিরোপা জিতেছে।
এছাড়া ১৯৬২, ২০১৭ ও ২০২১ সালে তারা রানার্সআপ হয়।
সেনেগাল দলীয় খবর
সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াওয়ের দলে নতুন কোনো ইনজুরি সমস্যা নেই।
সেনেগালের সম্ভাব্য একাদশ :
এদুয়ার মেন্ডি (গোলরক্ষক); ক্রেপিন দিয়াত্তা, কালিদু কুলিবালি, মুসা নিয়াখাতে, মালিক দিওফ; লামিন কামারা, ইদ্রিসা গানা গেই, পাপে গেই; ইলিমান এনদিয়ে, হাবিবু মুহাম্মাদু দিয়ালো, সাদিও মানে
ইজিপ্ট দলীয় খবর
শেষ ষোলোতে ইনজুরিতে পড়া মিডফিল্ডার মোহাম্মদ হামদি এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না। তবে কোচ হোসাম হাসানের হাতে বাকি সবাই ফিট।
ইজিপ্টের সম্ভাব্য একাদশ:
মোহাম্মদ এল শেনাওয়ি (গোলরক্ষক); ইয়াসের ইব্রাহিম, হোসাম আবদেলমাগুইদ, রামি রাবিয়া; মোহাম্মদ হানি, মারওয়ান আতিয়া, হামদি ফাতি, আহমেদ আবু এল ফতোহ; ইমাম আশুর; মোহাম্মদ সালাহ, ওমর মারমুশ।
সূত্র: আল জাজিরা
-মীর মোমিন










