বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের দিনগুলোতে সেনাবাহিনীর দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণেই জাতি একটি ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ থেকে রক্ষা পেয়েছে। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনী সবসময় লড়াই করেছে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে জীবন দিয়েও এক ইঞ্চি মাটি কাউকে দেয়নি।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
‘বোঝাপড়ার নির্বাচন চাই না’
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। কিন্তু সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে দেখে মনে হচ্ছে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে অনিচ্ছুক।” তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “আমরা কোনো বোঝাপড়ার নির্বাচন চাই না। বোঝাপড়া হবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জনগণের, কোনো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নয়।”
দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার
অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছি। আমরা নিজেরা দুর্নীতি করব না এবং কাউকে করতেও দেব না।”
বীরদের সম্মান জানানোর আহ্বান
মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর অবদান স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সেনাপতি জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “বীরদের অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে। নইলে নতুন করে আর বীর জন্মাবে না। যারা স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তারা কেউ বাঁচার আশায় লড়াই করেননি, বরং দেশকে স্বাধীনতা এনে দিতেই লড়াই করেছেন।”
কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কর্নেল (অব.) জাকারিয়া, ব্রিগেডিয়ার (অব.) এবিএম গোলাম মোস্তফা, কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান বীর প্রতীক, মেজর জেনারেল (অব.) মাহাবুব উল আলম, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান এবং মেজর (অব.) ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন প্রমুখ।
মোঃ আশরাফুল আলম | উপ-সম্পাদক










