আন্তর্জাতিক ডেস্ক | অনলাইন ডেস্ক
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যেই রাজধানী তেহরানে সরকারের পক্ষে একটি বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) তেহরানের কেন্দ্রস্থল এনগেলাব (বিপ্লব) স্কয়ারে হাজার হাজার মানুষ এই সমাবেশে অংশ নিয়ে সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন জানান এবং সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের স্মরণ করেন।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানের পতাকা হাতে নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ স্কয়ারে জড়ো হন। তেহরান সরকার চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে বিদেশি মদদপুষ্ট ‘দাঙ্গা’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে।
খামেনির ‘সতর্কবার্তা’
এই সমাবেশের পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সابق টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় সরকারপন্থী বিক্ষোভকারীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এই বিশাল সমাবেশ বিদেশি শত্রুদের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে। তার ভাষায়, “এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা।”
সংসদ স্পিকারের কঠোর হুঁশিয়ারি
সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনকে ‘সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইরান একসঙ্গে অর্থনৈতিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক চাপের মুখে রয়েছে। এসময় সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ‘আমেরিকার মৃত্যু’ ও ‘ইসরায়েলের মৃত্যু’ বলে স্লোগান দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও ইরানের প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিলেও জানিয়েছেন যে, তেহরান আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছে। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, “ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে প্রয়োজনে যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।” একইসঙ্গে তিনি ন্যায্যতা, সমান অধিকার ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সংলাপের পথ খোলা আছে বলেও জানান।
মোঃ আশরাফুল আলম | উপ-সম্পাদক










