৫৬ বছরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: জ্ঞান অর্জনের সঙ্গে নৈতিকতা চর্চার আহ্বান উপাচার্যের

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের বেলুন ওড়াচ্ছেন জাবি ভিসি। ছবি- আলোকিত স্বদেশ প্রতিনিধি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছর পূর্ণ করে ৫৬ বছরে পদার্পণ করেছে। এ উপলক্ষে আজ ১২ জানুয়ারি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২৬’।

সকালে পুরাতন কলা ভবনের সামনে মৃৎমঞ্চে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। পরে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির সূচনা করা হয়।

উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, শুধু জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না, তার পাশাপাশি নৈতিকতার চর্চাও সমুন্নত রাখতে হবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে এটিই আমাদের অঙ্গীকার। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে যেন আর কোনো অন্যায়ের কারণে ছাত্র-জনতাকে প্রাণ দিতে না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো স্তরেই অনৈতিকতার চর্চা কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ ড. মো. আবদুর রবসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান।

অনুষ্ঠান শেষে উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী এবং অতিথিরা অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়।

সেখানে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। একই সঙ্গে সদ্য প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণে শোক প্রকাশ করা হয়। পরে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্যদ্বয়, কোষাধ্যক্ষ, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, প্রক্টর, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, ছাত্রকল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্র, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতি এবং জাকসুর নেতারা বক্তব্য দেন।

দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি, স্মৃতিচারণ, পুতুল নাচ, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং নারী শিক্ষার্থীদের প্রীতি হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতা। সন্ধ্যায় সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান, র‌্যাম্প শো এবং ব্যান্ড সংগীত পরিবেশিত হয়।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র ও কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে পিঠা মেলার আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে আল্পনা ও গ্রাফিতি প্রদর্শনও ছিল দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম আহসান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ২০০১ সাল থেকে দিনটি ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

জাবি প্রতিনিধি