সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন, মানবিক উদ্যোগ, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং নাগরিক দায়বদ্ধতায় ব্যতিক্রমী অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নাগরিক পদক পাচ্ছেন একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তাঁরা সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
উদ্ভাবক ও নতুন উদ্যোগ ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুর রশিদ সোহাগ। তিনি নগর জীবনে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর স্কুল পরিবহন ব্যবস্থা চালু করেছেন। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো জনবহুল শহরে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ঝুঁকি কমাতে তাঁর উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। জিপিএসভিত্তিক অবস্থান অনুসরণ, অভিভাবকদের জন্য তাৎক্ষণিক তথ্য জানার ব্যবস্থা এবং যাচাই–বাছাই করা চালকের মাধ্যমে এই পরিবহন ব্যবস্থা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা অর্জন করেছে। বর্তমানে তাঁর উদ্যোগে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থী নিয়মিত নিরাপদভাবে যাতায়াত করছে, যা নগর পরিবহন ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ব্যক্তি উদ্যোগ ক্যাটাগরিতে নাগরিক পদক পাচ্ছেন শ্রুতি রানী দে। সমাজকল্যাণ, পরিবেশ রক্ষা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর নিরলস কর্মকাণ্ড স্থানীয় পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে। তিনি নিজ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, পরিবেশ সচেতনতা কর্মসূচি এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবিক কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে তাঁর নেতৃত্বে একাধিক বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে, যা সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণ ক্যাটাগরিতে নাগরিক পদক পাচ্ছে ‘আপলিফট বাংলাদেশ’। সংগঠনটি দেশের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে দীর্ঘদিন ধরে তথ্যভিত্তিক ও সচেতনতামূলক কনটেন্ট প্রকাশ করে আসছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা এবং সামাজিক পরিবর্তনের চিত্র তারা নিয়মিতভাবে উপস্থাপন করছে। এর মাধ্যমে দেশবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের অগ্রগতির ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে সংগঠনটি।
পরিবেশবান্ধব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত হয়েছে ভাষানটেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতা, নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। নিয়মিত বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ রক্ষা বিষয়ক আলোচনা, শিক্ষার্থীদের নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি একটি পরিবেশবান্ধব শিক্ষাঙ্গন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
সামাজিক সংগঠন ক্যাটাগরিতে নাগরিক পদক পাচ্ছে উত্তরা পাবলিক লাইব্রেরি। পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞানচর্চা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে সমাজ উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রাণী সুরক্ষায় অবদানের জন্য পি ফাউন্ডেশন এবং অধিকার আদায় ও সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য হাওয়া বেগম নাগরিক পদকে সম্মানিত হচ্ছেন।
এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় রাজস্বে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় সর্বোচ্চ করদাতা ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নাগরিক পদক পাচ্ছে। এই সম্মাননা প্রমাণ করে—সচেতন নাগরিক, মানবিক উদ্যোগ ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই একটি সমাজ এগিয়ে যায়।
আফরিনা সুলতানা/










