ক্যাচ মিস মানেই ম্যাচ মিস— এই কথাটার বাস্তব প্রমাণ পেল রংপুর রাইডার্স। ব্যক্তিগত ৪২ রানে মোহাম্মদ ওয়াসিমের ক্যাচ ফসকে ফেলেন আকিফ জাভেদ আর সেই সুযোগে ম্যাচ পুরোপুরি হাতছাড়া হয়ে যায় রংপুরের। সুযোগ পেয়ে আর পেছন ফিরে তাকাননি রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের এই ওপেনার। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে রাজশাহীকে এনে দেন ৭ উইকেটের বড় জয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাঁহাতি ব্যাটার ওয়াসিম খেলেন ৮৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস। সেঞ্চুরি না পেলেও তার ব্যাটিং ছিল পুরোপুরি বিধ্বংসী। ১৪৭.৪৫ স্ট্রাইকরেটে খেলা ইনিংসটি সাজান ৭ চার ও ৪ ছক্কায়। রংপুরের দেওয়া লক্ষ্য আর একটু বড় হলে শতক ছোঁয়ার সুযোগ থাকত তাঁর সামনে।
তবে রাজশাহীর জয়ের ভিত গড়ে দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে তিনি খেলেন ৭৬ রানের ইনিংস, আউট হওয়ার সময় তাঁর স্ট্রাইকরেট ছিল ১৮০.৯৫। শান্ত ও ওয়াসিম মিলে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ১৪২ রানের দুর্দান্ত জুটি, যা কার্যত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শান্ত ৬ চার ও ৪ ছক্কা মারেন। বিধ্বংসী এই ইনিংসের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন ওয়াসিম।
এই জুটির আগে ও পরে অবশ্য রাজশাহীর উইকেট পড়েছে দ্রুতই। ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান তামিম (৩) ওয়াসিমের সঙ্গে গড়েন ১৩ রানের জুটি। পরে তৃতীয় উইকেটে জিমি নিশামের (১) সঙ্গে যোগ হয় মাত্র ১০ রান। শেষ দিকে রায়ান বার্লের (৭*) সঙ্গে অপরাজিত ১৪ রানের জুটি গড়ে জয় নিশ্চিত করেন ওয়াসিম।
রংপুরের বোলারদের মধ্যে আকিফ জাভেদ সর্বোচ্চ ২টি উইকেট নেন।
এর আগে সিলেটে ব্যাট করতে নেমে আবারও আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন তাওহিদ হৃদয়। মাত্র ৩ রানের জন্য বিপিএলে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন তিনি। ২০২৪ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের হয়ে অভিষেক সেঞ্চুরি পাওয়া হৃদয় আজ খেলেন ৯৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস।
১৭৩.২১ স্ট্রাইকরেটে খেলা ইনিংসটি তিনি সাজান ৮ চার ও ৬ ছক্কায়। হৃদয় ও খুশদিল শাহ মিলে চতুর্থ উইকেটে গড়েন ১০৫ রানের জুটি, যা রংপুরকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেয়। খুশদিল খেলেন ৪৪ রানের ইনিংস, মারেন ৪ চার ও ৩ ছক্কা। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সংগ্রহ জয় এনে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হয়নি।
-এমইউএম










