রুনা খান ১৯৮৩ সালের ১১ জানুয়ারি মির্জাপুর, টাঙ্গাইলে জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব কাটে টাঙ্গাইলের সখিপুর শহরে। বাবা ফরহাদ খান একজন সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন এবং মা আনোয়ারা খান। রুনা তার জ্যেষ্ঠ সন্তান। তার স্বামীর নাম এষণ ওয়াহিদ এবং তাদের একমাত্র কন্যার নাম রাজেশ্বরী।
শিক্ষাজীবনে তিনি টাঙ্গাইলের একটি স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করে ১৯৯৮ সালে ঢাকায় আসেন। এরপর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং ইডেন মহিলা কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
রুনা খান ২০০২ সালে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের কর্মী হিসেবে যোগ দেন। ২০০৫ সালে জনপ্রিয় শিশুতোষ ধারাবাহিক সিসিমপুর-এর মাধ্যমে তার পেশাগত অভিনয় জীবন শুরু হয়। ২০১৫ সালে আসাদুজ্জামান নূর পরিচালিত ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’ মঞ্চনাটকে লাইলী চরিত্রে অভিনয় করেন। ২০১৬ সালে পাকিস্তানি লেখক সাদত হাসান মান্টোর রচনায় ‘নাম-গোত্রহীন মান্টোর মেয়েরা’ মঞ্চনাটকে অভিনয় করেন, যার নির্দেশনা দেন ঊষা গাঙ্গুলি। এছাড়াও তিনি সারা যাকেরের নির্দেশনায় ‘স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ’ নাটকে অভিনয় করেছেন।
রুনা খান বিভিন্ন জনপ্রিয় নাটক, মঞ্চনাটক, টেলিভিশন ধারাবাহিক এবং ওয়েবফিল্মে অভিনয় করেছেন। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল: ছায়াবিথী, মামাভাগ্নে, সংসার, সাতকাহন, আড্ডা, মায়ের দোয়া, জলরঙ, একটা কিনলে একটা ফ্রি, লংমার্চ, আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে, মাগো তোমার জন্য, ফ্যামিলি ক্রাইসিস।
তিনি একক নাটকেও প্রশংসিত, যেমন: দেয়াল আলমারী, অভিনেতা, দি বস, বাফার জোন, বোধ, স্বর্ণমানব, বড়মেয়ে, যদুই সন্ধ্যা, পথের প্রান্তে, বহিরাগত, বৌভাগ, বাবার ঘর, মাটিবর্তী, 143 I Love You, ঈশ্বরের গল্প, গোলাপী আতর, মৃত্যু বাণ, খোঁড়া ঘোড়া, দেবদূত, জমজ ১, চান্স মাস্টার, বাহাদুর ডাক্তার, টিনের চশমা, অবাক যোগসুত্র।
ওয়েবফিল্মে তার কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: কষ্টনীড়, আন্তঃনগর, অসময়, মার্ডার ৯০’স, বোধ, বোহেমিয়ান ঘোড়া। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন, যেমন গ্রামীণফোন, ডাচ-বাংলা মোবাইল ব্যাংক, স্কয়ার টয়লেট্রিজ, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, বিএসআরএম স্টিলস লিমিটেড।
রুনা খান তার অসামান্য অভিনয়ের জন্য বহু পুরস্কার অর্জন করেছেন। কিছু প্রধান সম্মাননা:
২৬ ডিসেম্বর ২০১৭: আরটিভি স্টার অ্যাওয়ার্ড – এক ঘণ্টার নাটক ও টেলিফিল্মে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী (প্রধান চরিত্র) ‘আহত পাখির গান’
৫ এপ্রিল ২০১৯: বাচসাস পুরস্কার – শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী ‘হালদা’
২০১৭: জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও বাচসাস পুরস্কার – শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী ‘হালদা’
২০১৭: ২০তম মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার – সমালোচক শাখায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ‘ছিটকিনি’
২০২৩: বাইফা পুরস্কার – শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী (ওয়েব সিরিজ ‘বোধ’)
২০২৪: বাইফা পুরস্কার – শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী (ওয়েব ফিল্ম ‘অসময়’)
চলচ্চিত্রে তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে: হালদা, ছিটকিনি, কালো মেঘের ভেলা, কষ্টনীড়, আন্তঃনগর, একটি না বলা গল্প, অসময়, নীলপদ্ম। বিশেষভাবে, নীলপদ্ম (২০২৫) চলচ্চিত্রটি ‘টোকিও লিফট অব চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৫’-এ সেরা ফিচার ফিল্ম হিসেবে পুরস্কৃত হয়।
রুনা খান মঞ্চ, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ওটিটি প্রতিটি ক্ষেত্রে দারুণ প্রশংসিত ও জনপ্রিয় একজন অভিনেত্রী।
বিথী রানী মণ্ডল/










