মান্না–তারেক রহমানের সেই মুহূর্ত

নায়ক মান্না বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নাম। ১৯৬৪ সালে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ১৯৮৪ সালে ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। এরপর আজহারুল ইসলাম খানের পরিচালনায় ‘তওবা’ ছবিতে অভিনয় করেন। পরে পরিচালক কাজী হায়াতের সঙ্গে জুটি বেঁধে একের পর এক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে সময়ের সেরা নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। আসলাম তালুকদার থেকে তিনি হয়ে ওঠেন কোটি দর্শকের প্রিয় নায়ক মান্না।

তারেক রহমান হাসিমুখে মান্নার দিকে তাকিয়ে আছেন। নায়ক মান্নাও একইভাবে হাসিমুখে কথা বলছেন এবং দুজনেই একে অপরের দিকে হাত বাড়িয়ে কুশল বিনিময় করছেন। অনেকেই ছবিটি সাম্প্রতিক সময়ের বলে ধরে নিলেও প্রকৃতপক্ষে এটি বহু বছর আগের একটি মুহূর্ত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রয়াত নায়ক মান্নার স্ত্রী শেলী মান্না।

প্রথম আলোকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় শেলী মান্না জানান, ছবিটি নতুন নয় এবং এটি তাদের ব্যক্তিগত সংগ্রহেও রয়েছে। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে দেখলাম ছবিটি ফেসবুকে ঘুরছে। অনেকেই মনে করছেন এটি সাম্প্রতিক সময়ের ছবি, কিন্তু আসলে এটি বহুদিন আগের।’ তার ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিটি ২০০২ সালের পরের সময়ের, যখন বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল।

শেলী মান্না আরও জানান, ছবিটি পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের সময় তোলা। সেদিন মান্না রমনার বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। সেখানে হঠাৎ করেই তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা হয় মান্নার। পরিচয় এবং কুশল বিনিময়ের পর দুজনের মধ্যে কিছু সময় কথা হয়। মূলত সেই মুহূর্তটিই ছবিতে ধরা পড়েছে।

সেদিনের আলাপচারিতা প্রসঙ্গে শেলী মান্না বলেন, মান্না রাজনীতিতে সরাসরি জড়িত ছিলেন না। তিনি অভিনয় ও সিনেমা নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন। তবে তারেক রহমান সেদিন মান্নার অভিনয়ের প্রশংসা করেছিলেন বলে তিনি শুনেছেন। কথাবার্তায় সিনেমা, দেশ ও সমাজ নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি তারকাদের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে দেশের সেবায় ভূমিকা রাখার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পরিবার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলেও আমরা ব্যক্তিগতভাবে রাজনীতি নিয়ে খুব একটা আগ্রহী ছিলাম না। আমিও তখন সরকারি চাকরিতে ছিলাম। যতটুকু জানি, মান্না তারেক রহমানের আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়েছিলেন এবং তাঁর প্রশংসাও করেছিলেন।’

২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৪৩ বছর বয়সে এই জনপ্রিয় অভিনেতার মৃত্যু হয়। তার অকালপ্রয়াণে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে চলচ্চিত্রাঙ্গন। আজও তার অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও স্মৃতি দর্শকদের হৃদয়ে অমলিন। ভাইরাল হওয়া সেই ছবিটি যেন আবারও স্মরণ করিয়ে দিল ঢালিউডের এক সময়ের সুপারস্টার মান্নার সঙ্গে রাজনীতি ও সংস্কৃতির এক ক্ষণিক, কিন্তু স্মরণীয় সংযোগের গল্প।

বিথী রানী মণ্ডল/