বাইরে চড়া রোদ, অতিরিক্ত কাজের চাপ কিংবা ঘুমের অভাব—মাইগ্রেন ট্রিগার করার জন্য আমরা সাধারণত এগুলোকেই দায়ী করি; কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা খুব সাধারণ কিছু খাবারও হতে পারে এই তীব্র যন্ত্রণার মূল কারণ? গবেষকদের মতে, প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের ব্যথার সূত্রপাত হয় ভুল খাবার নির্বাচনের কারণে।
চলুন জেনে নিই, মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলা জরুরি:
১. প্রসেসড মিট বা প্রক্রিয়াজাত মাংস
সসেজ, সালামি কিংবা বেকন অনেকেরই প্রিয়। কিন্তু এই ধরনের খাবারে স্থায়িত্ব বাড়ানোর জন্য ‘নাইট্রেট’ নামক এক ধরনের প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়। এই নাইট্রেট রক্তনালীকে প্রসারিত করে, যা সরাসরি মাইগ্রেনের ব্যথার ট্রিগার হিসেবে কাজ করে।
২. কৃত্রিম মিষ্টিকারক
যারা চিনি এড়িয়ে চলতে চান, তারা অনেকেই ডায়েট সোডা বা খাবারে কৃত্রিম চিনি (যেমন- অ্যাসপারটেম) ব্যবহার করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, এই উপাদানটি মাইগ্রেন রোগীদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি মস্তিষ্কের কেমিক্যালে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে ব্যথার তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়।
৩. এমএসজি যুক্ত খাবার
চীনা খাবার কিংবা ফ্রোজেন ফুডের স্বাদ বাড়াতে ‘মোনোসোডিয়াম গ্লুটামেট’ বা টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করা হয়। এটি অনেকের ক্ষেত্রেই মাইগ্রেনের তাৎক্ষণিক কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই বাইরের খাবার কেনার আগে উপাদানের তালিকায় এমএসজি আছে কি না দেখে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
৪. অতিরিক্ত ক্যাফেইন
এক কাপ কফি হয়তো সাময়িকভাবে মাথা ব্যথা কমায়, কিন্তু দিনে বারবার কফি বা চা পানের অভ্যাস মাইগ্রেন রোগীদের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। রক্তে ক্যাফেইনের মাত্রা হঠাৎ কমে গেলে (Caffeine Withdrawal) শুরু হতে পারে প্রচণ্ড ব্যথা।
৫. চকোলেট ও পুরনো পনির
শুনতে খারাপ লাগলেও সত্যি যে, চকোলেট অনেকের জন্য মাইগ্রেনের ট্রিগার। এতে থাকা ‘বিটা-ফিনাইল-ইথাইল-অ্যামাইন’ নামক উপাদানটি ব্যথা বাড়াতে পারে। একইভাবে পুরনো পনিরে থাকা ‘টাইরামিন’ নামক অ্যামিনো অ্যাসিড রক্তনালীর সংকোচন-প্রসারণে প্রভাব ফেলে ব্যথা শুরু করে।
৬. অ্যালকোহল ও রেড ওয়াইন
মদ বা অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন তৈরি করে, যা মাইগ্রেন ট্রিগার করার অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে রেড ওয়াইনে থাকা ট্যানিন ও টাইরামিন খুব দ্রুত মাথা ব্যথার উদ্রেক করে।
৭. অতিরিক্ত লবণাক্ত ও টক জাতীয় খাবার
বেশি লবণ দেওয়া চিপস বা ইনস্ট্যান্ট নুডলস শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, লেবু জাতীয় ফল (সাইট্রাস ফ্রুট) অনেকের জন্য খুব উপকারী হলেও কারো কারো ক্ষেত্রে এটি মাইগ্রেন ট্রিগার করতে পারে।
তাহলে করণীয় কী?
ব্যক্তিভেদে মাইগ্রেনের ট্রিগার আলাদা হতে পারে। আপনার ক্ষেত্রে কোন খাবারটি সমস্যা করছে, তা বোঝার জন্য একটি ‘ফুড ডায়েরি’ মেইনটেইন করুন। প্রতিদিন কী খাচ্ছেন এবং কখন ব্যথা শুরু হচ্ছে তা লিখে রাখলে আপনি সহজেই আপনার ‘শত্রু’ খাবারটি চিনে নিতে পারবেন।
কেবল খাবার বর্জনই নয়, নিয়মিত সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত জল পান এবং নির্দিষ্ট সময়ে আহার মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে জাদুর মতো কাজ করে।
-এম এইচ মামুন










