শীতকাল এলেই ত্বকের যত্ন নিয়ে বাড়তি চিন্তা শুরু হয়। ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক দ্রুত রুক্ষ, নিষ্প্রাণ ও শুষ্ক হয়ে পড়ে। অনেকের ক্ষেত্রে দেখা দেয় খসখসে ভাব, চুলকানি কিংবা ফাটা দাগ। এই সময়ে দামি প্রসাধনী ব্যবহার না করে ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের যত্ন নিলে ত্বক যেমন ভালো থাকে, তেমনি ক্ষতির আশঙ্কাও কমে। শীতের দিনে ত্বকচর্চার জন্য এমনই একটি সহজ, নিরাপদ ও কার্যকর উপাদান হলো চালের গুঁড়া।
চালের গুঁড়া প্রাকৃতিকভাবে ত্বক পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এতে থাকা সূক্ষ্ম দানাদার অংশ ত্বকের উপর জমে থাকা মৃত কোষ দূর করে এবং রোমকূপ পরিষ্কার রাখে। শীতকালে ত্বক যখন নিস্তেজ হয়ে যায়, তখন চালের গুঁড়া দিয়ে হালকা স্ক্রাব করলে ত্বকে নতুন প্রাণ ফিরে আসে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ দেখায়।
শুষ্ক ত্বকের জন্য চালের গুঁড়ার সঙ্গে কাঁচা দুধ বা দুধের সর খুব উপকারী।
১ টেবিল চামচ চালের গুঁড়ার সঙ্গে ১–২ টেবিল চামচ কাঁচা দুধ মিশিয়ে একটি মসৃণ প্যাক তৈরি করুন। এতে কয়েক ফোঁটা মধু যোগ করলে ত্বকে অতিরিক্ত আর্দ্রতা বজায় থাকে। পরিষ্কার মুখে এই প্যাক লাগিয়ে ১–২ মিনিট আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন। এরপর ৫ থেকে ৭ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বক হবে নরম, কোমল ও উজ্জ্বল।
যাদের ত্বক তৈলাক্ত বা মিশ্র প্রকৃতির, তারা দুধের বদলে টক দই বা গোলাপ জল ব্যবহার করতে পারেন। চালের গুঁড়া ও টক দইয়ের মিশ্রণ ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে এবং ব্রণ বা ব্ল্যাকহেডের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। সপ্তাহে দুই দিন এই প্যাক ব্যবহার করলে মুখ পরিষ্কার ও সতেজ থাকে।
চালের গুঁড়া শুধু মুখের যত্নেই নয়, ঠোঁট ও হাত-পায়ের যত্নেও দারুণ কার্যকর। শীতকালে ঠোঁট ফেটে যাওয়ার সমস্যা খুব সাধারণ। সামান্য চালের গুঁড়ার সঙ্গে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল মিশিয়ে ঠোঁটে আলতোভাবে ঘষলে মৃত চামড়া উঠে যায় এবং ঠোঁট হয় নরম ও গোলাপি। একইভাবে হাত ও পায়ের রুক্ষ অংশে চালের গুঁড়া, মধু ও দুধের মিশ্রণ ব্যবহার করলে শুষ্কতা কমে।
এ ছাড়া চালের গুঁড়া ত্বকের রঙ পরিষ্কার করতেও সহায়ক। দীর্ঘদিন নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের দাগছোপ হালকা হয় এবং স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসে। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন এই ঘরোয়া রূপচর্চা করলে শীতের দিনেও ত্বক থাকবে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, সতেজ ও প্রাণবন্ত।
বিথী রানী মণ্ডল/










