ভেনেজুয়েলায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে ট্রাম্পের আহ্বান, তেল কোম্পানিগুলোর অনীহা

ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে বড় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত বহুল আলোচিত বৈঠকে তেল খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলা বড় অঙ্কের বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত নয়।

বৈঠকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোর কাছে ভেনেজুয়েলায় বিপুল বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি চাইলেও বাস্তবতা ও ঝুঁকির কথা বিবেচনায় রেখে তারা সতর্ক অবস্থান নেয়। যদিও ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে, তবু রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনি অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানগুলো।

তেল কোম্পানিগুলোর ভাষ্য, ভেনেজুয়েলায় বড় বিনিয়োগ টানতে হলে কাঠামোগত সংস্কার ও বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। এক্সনের প্রধান নির্বাহী ড্যারেন উডস বলেন, অতীতে দুই দফা সম্পদ জব্দের অভিজ্ঞতা থাকায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ছাড়া সেখানে নতুন করে বিনিয়োগ করা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলা বিনিয়োগবান্ধব নয়।

বর্তমানে মার্কিন কোম্পানিগুলোর মধ্যে একমাত্র শেভরন ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি স্পেনের রেপসোল ও ইতালির এনির মতো কয়েকটি বিদেশি কোম্পানিও সীমিত পরিসরে সক্রিয়। বৈঠকে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাম্প জানান, কোন কোম্পানি ভেনেজুয়েলায় কাজ করবে, সে সিদ্ধান্ত তাঁর প্রশাসনই নেবে এবং কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার সরকারের পরিবর্তে সরাসরি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির ওপর থাকা কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানায় হোয়াইট হাউস।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে এবং তেল বিক্রির অর্থ যেন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকে, সে ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দও করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ঘাটতি, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের এক শতাংশেরও কম।

বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইঙ্গিত থাকলেও বড় তেল কোম্পানিগুলো এখনই বড় বিনিয়োগে যেতে রাজি নয়। নিরাপত্তা, আইনি নিশ্চয়তা ও প্রতিযোগিতামূলক করব্যবস্থা ছাড়া এক্সন বা শেলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করবে না বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

জ্বালানি বিশ্লেষক ডেভিড গোল্ডউইনের মতে, ছোট কোম্পানিগুলো সীমিত আকারে বিনিয়োগে আগ্রহী হতে পারে, তবে তা ট্রাম্পের ঘোষিত ১০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছিও নয়। অন্যদিকে রিস্টাড এনার্জির হিসাব অনুযায়ী, উৎপাদন তিন গুণ বাড়াতে হলে ২০৪০ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।

সব মিলিয়ে, ভেনেজুয়েলার তেল খাতে সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বড় বিনিয়োগ এখনো অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।

সূত্র:বিবিসি

আফরিনা সুলতানা/