‘আগে গুলি, পরে আলাপ’ যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি ডেনমার্কের

দোরসা, গ্রীনল্যান্ড

গ্রিনল্যান্ড দখল বা সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপের যেকোনো মার্কিন প্রচেষ্টাকে ‘রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের’ মাধ্যমে মোকাবিলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ডেনমার্ক। ডেনিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন সেনারা গ্রিনল্যান্ড আক্রমণ করলে ডেনিশ সেনারা কোনো উচ্চতর নির্দেশের অপেক্ষা না করেই ‘আগে গুলি’ চালাবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এবং স্থানীয় পত্রিকা বার্লিংস্কে-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেনমার্ক ১৯৫২ সালের একটি পুরোনো সামরিক আইন সক্রিয় করেছে। ওই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বৈদেশিক শক্তি আক্রমণ করলে ফিল্ড কমান্ডাররা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য, এমনকি যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার প্রয়োজনও নেই।

ট্রাম্পের ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ ও রুশ-চীন জুজুঃ চলতি সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে তেল ও গ্যাস খাতের নির্বাহীদের সাথে এক বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় গ্রিনল্যান্ড দখলের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। তার দাবি, গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে রুশ ও চীনা জাহাজে সয়লাব হয়ে আছে এবং ডেনমার্ক একা এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম নয়। ট্রাম্প বলেন, “আমাদের গ্রিনল্যান্ড খুব বেশি প্রয়োজন এবং তারা (ডেনমার্ক) পছন্দ করুক বা না করুক, আমরা সেখানে কিছু একটা করতে যাচ্ছি।” ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী কর্তৃক আটক করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর ট্রাম্পের এই হুমকিকে এখন আর কেবল ‘বক্তৃতা’ হিসেবে দেখছে না ইউরোপ।

১ লাখ ডলারের ‘ঘুষ’ ও প্রলোভনঃ রয়টার্সের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক হামলার পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের প্রলুব্ধ করার কৌশলও খুঁজছে ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় গ্রিনল্যান্ডের প্রতিটি বাসিন্দাকে (প্রায় ৫৭,০০০ মানুষ) ১০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ‘নগদ অর্থ’ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য হলো—তাদের ডেনমার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যোগ দিতে উৎসাহিত করা। তবে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডরিক নিলসেন এই প্রস্তাবকে ‘অসম্মানজনক’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ন্যাটোর সমাপ্তি ঘটার শঙ্কাঃ ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে বলেছেন, এক ন্যাটো মিত্রের ওপর অন্য মিত্রের সামরিক হামলা হবে ন্যাটোর মৃত্যুঘণ্টা। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ন্যাটো দেশে হামলা চালায়, তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিশ্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ন্যাটো—সবই শেষ হয়ে যাবে।”

এদিকে ফ্রান্স ও জার্মানিসহ ইউরোপীয় মিত্ররা ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বরো জানিয়েছেন, তারা ইউরোপীয় অংশীদারদের নিয়ে এই পরিস্থিতির পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

-এম. এইচ. মামুন