পবিপ্রবিতে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা: ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

নিরাপদ ক্যাম্পাস হিসেবে পরিচিতি থাকলেও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সড়কে কার্যকর স্পিড ব্রেকার না থাকা এবং বহিরাগত যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে নিয়মিতভাবে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা: গত ৫ জানুয়ারি (রবিবার) বিকেলে ক্যাম্পাসের ভেতরে দ্রুতগতির একটি বহিরাগত অটোরিকশার ধাক্কায় পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান অনুষদের চার শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে রিফা তাহসিন নামের এক শিক্ষার্থী গুরুতর জখম হলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়া গত ২৭ নভেম্বর একই ধরনের এক দুর্ঘটনায় রাকিবুল হাসান নামে এক শিক্ষার্থী পায়ের পাতায় গুরুতর আঘাত পান, যা তাকে দীর্ঘমেয়াদী বিশ্রামে পাঠিয়েছে।
মূল সমস্যা ও সরজমিন চিত্র: সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পূর্ব গেট থেকে পশ্চিম গেট এবং মেইন গেট থেকে ছাত্রীহল পর্যন্ত সড়ক সংস্কার ও পিচ ঢালাই করা হয়েছে। রাস্তা মসৃণ হওয়ায় বহিরাগত প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা অনুমোদিত গতিসীমা লঙ্ঘন করে যাতায়াত করছে। অথচ এই অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো দিয়েই প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীসহ কয়েকশ শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী চলাচল করেন। কিন্তু সংস্কারকৃত সড়কে কোনো স্পিড ব্রেকার না থাকায় চলাচলের ক্ষেত্রে প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ছে।
ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা: শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের গোলচত্বর বা গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে আগে স্পিড ব্রেকার থাকলেও সংস্কারের নামে সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এছাড়া বহিরাগত যানবাহনের অবাধ প্রবেশ ও নিয়ন্ত্রণহীন গতিই এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ। এমনকি রাস্তা সংস্কার চলাকালে মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত গাড়িও একটি বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
প্রশাসনের বক্তব্য: এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. আবুল বাশার খান বলেন, “অভ্যন্তরীণ সড়কের নির্মাণকাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম হাতে পেলেই দ্রুত স্পিড ব্রেকার স্থাপন করা হবে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে আজ রাতের মধ্যেই সড়ক মার্কিং সম্পন্ন করা হবে।”
শিক্ষার্থীদের দাবি: ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে দ্রুত গতিরোধক স্থাপন, বহিরাগত যান চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
–লামিয়া আক্তার